Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ১১ দলে টানাপোড়েন

জোটে সিদ্ধান্ত হয়েছে যার যার মতো প্রার্থী দেবে-হামিদুর রহমান * নির্বাচন শুরু হলে আবার আলোচনা হতেও পারে-মামুনুল হক * জোটে কোনো অসন্তোষ নেই-সরোয়ার তুষার

Advertisement

শহীদুল ইসলাম

শহীদুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ১১ দলে টানাপোড়েন

Advertisement

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মতবিরোধ স্পষ্ট হলেও তা স্বীকার করছেন না ১১-দলীয় জোটের নেতারা। জোটের শরিক দলগুলো জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আসন ভাগাভাগি করে প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে। তবে জোটের বড় দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আলাদা নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শরিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দলগুলোর মধ্যে বাড়ছে দূরত্বও। তবে এসব নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাইছেন না জোটের নেতারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আলাদা প্রার্থী নিয়ে মাঠে কাজ করার জোটের যে সিদ্ধান্ত, সেটি নিয়ে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে চান জোটের নেতারা। ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের প্রয়োজন পড়লে সবার সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে জোটের শীর্ষস্থানীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছিল। কম আসন দেওয়ার অভিযোগ করেছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস। শেষ পর্যন্ত আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের জেরে ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে গিয়ে আলাদা নির্বাচন করে। এর পরও প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব না মেলায় জোটের ভেতরে অসন্তোষ না কমে বরং বেড়েছে। সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন নিয়ে সব শরিকের মতামত না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়ে জামায়াতের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাকে শরিক দলগুলো ভালোভাবে নিচ্ছে না। যদিও জামায়াত সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে নিজেদের তিনটি আসন শরিকদের জন্য ছেড়ে দিয়ে জোটবদ্ধ রাজনীতিতে নজির গড়লেও জোটের মধ্যে টানাপোড়েন দূর করা যায়নি।

জাতীয় নির্বাচনের পর খেলাফত মজলিস ঘোষণা দিয়ে জোট থেকে বেরিয়ে গেছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনে তাদের দেখা যাচ্ছে না। খেলাফত আন্দোলনকে জাতীয় নির্বাচনে কোনো আসন দেওয়া হয়নি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি আসনে আলাদা নির্বাচন করে হাফেজ্জি হুজুরের দলটি। তবে সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনে এই দলের একটি অংশকে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে কার্যত ১১ দল এখন ১০ দল।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের আহ্বায়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে জোটে ইতঃপূর্বে আলোচনা হয়েছে। যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন নয়, সেহেতু সবাই আলাদাভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারে সব মিলিয়ে ৬৫ হাজার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। সেখানে সমঝোতা বেশ কঠিন। তবে কারও মনে ভিন্নচিন্তা থাকলে সেটা তাদের ব্যাপার।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১ দলের মধ্যে টানাপোড়েনের বিষয়টি সামনে এসেছে সিটি করপোরেশনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে। ইতোমধ্যে জামায়াত এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তারা মাঠেও নেমে পড়েছে কৌশলে। আলাদ আলাদা নির্বাচন করলে বিএনপি প্রার্থীকে মোকাবিলা করে বিজয়ী হওয়া দুই দলের পক্ষে কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে জোটের মধ্যেও। এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে ভেতরে ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করছে। এ নিয়ে অসন্তোষ আছে শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়ে। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান-মেম্বর পদে প্রার্থী দেওয়ার মতো লোক আছে শুধু জামায়াতে ইসলামীতে। জোটের শরিকদের অবস্থান সারা দেশে দুর্বল। তাই জোটের নেতারা কিছু কিছু জায়গায় জামায়াতের সমর্থনে তাদের প্রার্থীদের বিজয়ী করে আনতে চায়। এ বিষয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় জোটের মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভ কাজ করছে। ভেতরে ভেতরে এসব অসন্তোষের পরও ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করে যাচ্ছে ১১-দলীয় জোট। চলমান লংমার্চ কর্মসূচিতে জোটের নেতাদের বক্তব্য এবং কর্মীদের উপস্থিতি বিবেচনায় কোনো টানাপোড়েন ও আস্থার সংকট দেখা যাচ্ছে না। তবে আলাদা প্রার্থী দেওয়া বা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি-দুটোই মাথায় রেখে কাজ করছে দলগুলো। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক যুগান্তরকে বলেন, এখানে কোনো দলীয় প্রতীক নেই। এজন্য জোটবদ্ধ নির্বাচনের চিন্তা বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনের সময় এগিয়ে এলে কোনো কোনো জায়গায় সমঝোতা হতেও পারে। এ নিয়ে ভবিষ্যতে জোটে আলোচনা হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আগে প্রার্থীরা মাঠে নামুক। আমরা সবার অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছি। বৃহত্তর স্বার্থে অনেক সময় ছাড় দেওয়া লাগে। ভবিষ্যতেও সেটা হতে পারে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম-আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, যেহেতু দলীয় প্রতীক নেই, সেহেতু আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন জোটবদ্ধভাবে করছি না। আমরা প্রার্থী বাছাই করছি এবং তাদের মাঠে কাজ করতে বলেছি। সিটি করপোরেশনে কোনো কোনো জায়গায় সমঝোতার ভিত্তিতে একক প্রার্থী দেওয়া লাগতে পারে। তবে সেই সময় এখনো আসেনি। মাঠের অবস্থা কী, তা দেখতে হবে আগে। ১১ দলের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান যুগান্তরকে বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিষয়টি পরিষ্কার করেছে। দলীয় প্রতীক না থাকায় আলাদা আলাদা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে সবাই। অনেকেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। প্রার্থীরাও মাঠে কাজ করছেন। এ বিষয়ে জোটে কোনো অসন্তোষ দৃশ্যমান নয়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সংবিধানে আসছে মৌলিক পরিবর্তন আবারও গণভোটের চিন্তা

আবারও গণভোটের চিন্তা

দুদিনে চার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা নতুন আতঙ্ক মধ্যরাতে হামলা

নতুন আতঙ্ক মধ্যরাতে হামলা

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠেন

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠেন

সালমানের স্টুডিওতে হামলা ভাঙচুর গুলি লুটপাট

সালমানের স্টুডিওতে হামলা ভাঙচুর গুলি লুটপাট

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম