Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

চাঁদাবাজি দমনে বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগই যথেষ্ট

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁদাবাজি দমনে বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগই যথেষ্ট

প্রতীকী ছবি

Advertisement

চাঁদাবাজি প্রতিরোধে পুলিশকে মামলা করার ক্ষমতা দিয়ে সরকার নতুন আইন বা সংশোধনের কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সোমবার দেওয়া তার এই বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি ধোঁয়াশা ও বিতর্ক। আইন বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশিষ্টজনের মতে, বিদ্যমান ফৌজদারি আইনেই এ ধরনের অপরাধ দমনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাই নতুন আইন তৈরির চেয়ে বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগই যথেষ্ট বলে তারা জানিয়েছেন। তবে তাদের মতে, প্রয়োজনে শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে আইনটি সংশোধন করা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘চাঁদাবাজির ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মামলা করতে সাহস পান না। ফলে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হলেও ভুক্তভোগীদের এজাহার না থাকায় পুলিশকে বাধ্য হয়ে তাদের ছেড়ে দিতে হয়। এই সংকট নিরসনে আইন সংশোধন করে পুলিশ যাতে নিজেই বাদী হয়ে চাঁদাবাজির মামলা করতে পারে, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন ধারণা বিদ্যমান আইনের সঙ্গে স্পষ্ট সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছেন কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। তারা যুগান্তরকে জানান, ১৮৬০ সালের বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৮৪ ধারা অনুযায়ী চাঁদাবাজি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ পেলে পুলিশ সরাসরি এজাহার হিসাবে তা লিপিবদ্ধ করতে পারে। ভুক্তভোগী নিজে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ বা এজাহার না দিলেও পুলিশের পক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তাদের মতে, কেবল চাঁদাবাজির ক্ষেত্রেই নয়; দেশে অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনের অভাব নেই। মূল সংকট হলো, আইনের নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগ না থাকা।

সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মনজিল মোরসেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘দেশের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী গুরুতর বা আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ সংবাদ পেলে বা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারে। আইন অনুযায়ী পুলিশ নিজ থেকেও মামলা করার পূর্ণ এখতিয়ার রাখে।’ তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ‘রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা অপরাধমূলক ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য বা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের ভিত্তিতে নিজ দায়িত্বেই মামলা করে থাকে। একইভাবে চাঁদাবাজির তথ্য জানা থাকলে বা খবর পেলে বিদ্যমান আইনেই পুলিশ মামলা ও অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। সাধারণ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিলে কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হয়, তবে পুলিশ নিজে থেকে মামলা করতেও কোনো আইনি বাধা নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক আইন আছে। কিন্তু আইনের সঠিক প্রয়োগ নেই। তাই আইন যুগোপযোগী করার পাশাপাশি এর সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। সঠিক প্রয়োগ না হলে যত কঠিন আইনই করা হোক না কেন, কোনো লাভ হবে না। তবে চাঁদাবাজির অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে আইন সংশোধন করা হলে তা ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।’

চাঁদাবাজি সংক্রান্ত নতুন আইন বা সংশোধনীর অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রীর বক্তব্য আমি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো আপডেট নেই।’

মন্ত্রণালয়ের অপর অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অন্যান্য অপরাধ ও চাঁদাবাজির অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য আছে। পুলিশ বাদী হয়ে চাঁদাবাজির মামলা করার পর যদি ভিকটিম আদালতে গিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে, তাহলে পুলিশের বিপদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এ কারণেই এ সংক্রান্ত আইন সংশোধনের কথা ভাবা হচ্ছে।’

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ‘বিদ্যমান আইনের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রয়োগেই অপরাধ দ্রুত বন্ধ হতে পারে। নতুন আইনের কথা বলে সরকার বিদ্যমান সমস্যাকে আরও প্রলম্বিত করতে চাইছে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আহমেদ সফি উদ্দিন বলেন, ‘অসংখ্য আইন প্রণয়ন হচ্ছে। ২০ বছরে আইন প্রণয়নে সর্বকালের রেকর্ড হয়েছে। এত আইন অতীতে হয়নি। এর মধ্যে নিশ্চয় অনেক আইনই মানুষের কল্যাণে কাজে লাগছে। পাশাপাশি এটাও ঠিক, বেশকিছু আইন যেগুলো প্রণয়ন হয়েছে, সেসবের কার্যকারিতা নেই।’

রংপুরের সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কাজী মোহাম্মদ জুন্নুন বলেন, ‘দেশের বিদ্যমান আইনেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অপরাধ দমন সম্ভব। এর জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।’ রংপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সাজেদ হোসেন তাতা বলেন, ‘নতুন আইনের প্রয়োজন নেই। দরকার প্রচলিত আইনের শাসনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন।’

যশোরের বহুমাত্রিক জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠান প্রাচ্য সংঘের প্রতিষ্ঠাতা বেনজীন খান বলেন, ‘আইন যথেষ্ট আছে, নতুন করে আর দরকার নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার দলের সদিচ্ছা থাকলে সবকিছুই সম্ভব। নেতা নিজে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস না করলে সমাজে কেউ তা করবে না।’

কুমিল্লা সুজনের সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, ‘চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ধরতে বিদ্যমান আইনই যথেষ্ট। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় হয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

গুজবেই তৈরি হচ্ছে জনমত তথ্যযুদ্ধে পিছিয়ে সরকার

তথ্যযুদ্ধে পিছিয়ে সরকার

উচ্চকক্ষ নিয়ে প্রশ্ন, সংসদে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত

উচ্চকক্ষ নিয়ে প্রশ্ন, সংসদে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ

পুলিশ সদর দপ্তরের সভায় উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা আস্থার সংকটে অস্থিরতা আরও বাড়ার শঙ্কা

আস্থার সংকটে অস্থিরতা আরও বাড়ার শঙ্কা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম