এলপিজির বাজারে অরাজকতা
দাম বৃদ্ধির পরও কাটেনি সংকট
সারা দেশে এলপিজির কৃত্রিম সংকট, বাড়তি টাকা দিলে মিলছে গ্যাসের সিলিন্ডার
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারিভাবে দাম বৃদ্ধির পরও বাজারে এলপিজির সংকট চলছে। কয়েকদিন ধরেই এলপিজির বাজারে অরাজকতা চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার থেকে এলপিজির দাম কেজিপ্রতি ২১ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। এরপরও সংকট দূর হয়নি। সরকারি দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে গ্রাহককে কিনতে হচ্ছে এলপিজির সিলিন্ডার। দাম বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার সরকার ১৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করলেও গতকালও বাজারে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ টাকায়। ডিস্ট্রিবিউটরদের অভিযোগ, এলপিজি অপারেটররা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি নিচ্ছে। তারা ডিস্ট্রিবিউটরদের কমিশন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বাজারে এলপিজির দাম কমছে না, বাড়ছে ক্রেতার ভোগান্তি।
ডিস্ট্রিবিউটর এবং ডিলারদের সংগঠন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবু তাহের কোরাইশী যুগান্তরকে বলেছেন, মূলত এলপিজি অপারেটরদের কর্তৃত্ব এবং বিইআরসির ভুল নীতির কারণে দেশের এলপিজির বাজারে শৃঙ্খলা ফিরছে না। তিনি বলেন, ২৭টি কোম্পানির এলপিজির দাম ভিন্ন। এটা কীভাবে হতে পারে। অথচ বিইআরসি সবার জন্য একক দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। তাহলে কী বিইআরসি বা সরকার ঠিকমতো কাজ করছে না? এসব অভিযোগের ব্যাপারে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ যুগান্তরকে বলেছেন, এলপিজি বিক্রির ব্যাপারে ১২টি কোম্পানির কাছে হিসাব চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি কোম্পানি হিসাব জমা দিয়েছে। সবার জবাব পাওয়ার পর কমিশন সবকিছু তদন্ত করে দেখবে আসলে এলপিজির দাম বাড়তি কেন।
রোববার বিইআরসি ১২ কেজির সিলিন্ডারের এলপিজি দাম বাড়িয়েছে ২৫২ টাকা। আগে ১২ কেজির এই সিলিন্ডার বিক্রি হতো ১ হাজার ৫৮৫ টাকায়। দাম বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু এখনো বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে গ্রাহককে। সারা দেশে এলপিজির কৃত্রিম সংকট চলছে। কোথাও গ্যাস নেই অবস্থা চলছে। কিন্তু বাড়তি টাকা দিলে ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে। রোববার দাম ঘোষণার পর অনেকে মনে করেছিল গ্যাস পাওয়া যাবে। কিন্তু মিলছে না সরকার ঘোষিত দামে।
বিএম এনার্জির ডিস্ট্রিবিউটর আহমেদ সোমবার যুগান্তরকে বলেছেন, ওমেরা প্ল্যান্ট কিছুটা বেশি দাম রাখলেও বিএম এনার্জি ডিস্ট্রিবিউটরদের যথারীতি সম্পূর্ণ কমিশন দিচ্ছে। ওমেরা ১২ কোজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৭৭২ টাকা রাখলেও বিএম এনার্জি রাখছে ১ হাজার ৭৪২ টাকা। ক্রেতাদের অভিযোগ বাজারে বিএম এনার্জির গ্যাস সরকারি দামে পাওয়ার কথা থাকলেও তা মিলছে না।
কারওয়ান বাজারের চা বিক্রেতা আব্দুর রহিম খোকন জানিয়েছে, পেট্রোমেক্স এবং বিএম এলপিজি ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকায়। তিনি বলেন, মাত্র ১০-১২ দিন আগে ১ হাজার ৬০০ টাকায় এই সিলিন্ডার পাওয়া গেছে। এখন এত দাম বাড়বে কেন। সাভার ও মানিকগঞ্জে ওমেরা এলপিজির অন্যতম ডিস্ট্রিবিউটর মোহাম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, বিইআরসি দাম ঘোষণার পর ওমেরা এলপিজি সরবরাহ শুরু করেছে। কিন্তু এখন ওমেরা সমস্যা করছে ডিস্ট্রিবিউটরদের কমিশন নিয়ে। সরকার ১২ কেজির এলপিজির দাম ঠিক করেছে খুরচা পর্যায়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। সেই হিসাবে প্ল্যান্ট গেটে এর দাম থাকার কথা কমিশনসহ ১ হাজার ৭৪২ টাকা। কিন্তু ওমেরা নিচ্ছে ১ হাজার ৭৭২ টাকা। ওমেরার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরের কাছে এটা স্বীকার করে বলেছেন, গাড়ি ভাড়া এবং কমিশনসহ এখন ১২ কেজির বোতল ১ হাজার ৭৪২ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অন্য এক ডিলার জানান, ওমেরার প্ল্যান্টে দুদিন ধরে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে এলপিজির ক্রয়ে খরচ বাড়ছে।
মোহাম্মদপুর এলাকার এলপিজি বিক্রেতা নাসির উদ্দিন মোল্লা সোমবার জানান, ১০০ টাকা লাভে সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ বাজারে সিলিন্ডারের সংকট আছে। আসাদগেট এলাকার বাসিন্দা মাহবুবা খানম জানান, তিতাসের লাইনে গ্যাস থাকে না। এখন বাধ্য হয়ে এলপিজির সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। সেই সিলিন্ডারের দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। এই অবস্থা হলে মধ্যবিত্ত কোথায় যাবে। তিনি এই ব্যাপারে সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, মজুতদারির বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে।
