Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

স্পর্শকাতর মামলার তদন্তে পুরুষ কর্মকর্তা

বিচার চাইতে গিয়ে উলটো হয়রানির শিকার নারী

Advertisement

Icon

রফিকুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিচার চাইতে গিয়ে উলটো হয়রানির শিকার নারী

Advertisement

ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি বা যৌন নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় থানায় গিয়ে উলটো মানসিক হেনস্তার শিকার হচ্ছেন নারীরা। পুলিশ বাহিনীতে নারী সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) চরম সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার তদন্তভার দেওয়া হচ্ছে পুরুষ কর্মকর্তাদের। ফলে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা ও সংবেদনশীল তথ্য দিতে গিয়ে সংকোচ, ভয় ও গোপনীয়তা ভঙ্গের ঝুঁকিতে পড়ছেন ভুক্তভোগীরা। নারী ও শিশু ডেস্কগুলোতে নারী কনস্টেবল দিয়ে প্রাথমিক কাজ চালানো হলেও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে মূল তদন্ত পুরুষ এসআইদের হাতেই থাকছে।

বিশ্লেষক ও পুলিশের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, নারী ভুক্তভোগীদের আইনি সুরক্ষা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নারী এসআইয়ের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।

গত ২৪ জুলাই নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধর্ষণের শিকার হয় এক কিশোরী। আবদুল্লাহ-আল মামুন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পান পিবিআইয়ের পরিদর্শক ইব্রাহিম খলিল। তবে স্পর্শকাতর এ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পুরুষ কর্মকর্তার সামনে চরম সংকোচে পড়েন ওই কিশোরী। বাধ্য হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, ডিএনএ টেস্ট ও সুরতহালের মতো সংবেদনশীল কাজের জন্য একজন নারী এএসআইয়ের সহায়তা নিতে হয় তদন্ত কর্মকর্তাকে।

অন্যদিকে গত ১৬ এপ্রিল রাজধানীর কদমতলীতে মেহেদী হাসান ফারহান নামের এক যুবক ও তার সহযোগীদের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক নারী। পরদিন কদমতলী থানায় মামলা করেন তিনি। তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা তদন্তের নামে ওই কর্মকর্তা তাকে ফোনে ও থানায় ডেকে বারবার হয়রানিমূলক কথাবার্তা বলেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের বদলে উলটো ভুক্তভোগীকেই দোষী সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা চালান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু এই কিশোরী ও নারীই নন, দেশে নারী এসআইয়ের সংকটের কারণে বহু নারী এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। লজ্জা ও সংকোচের কারণে অনেকে পুরুষ কর্মকর্তার কাছে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলতে পারেন না।

নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য দেশের প্রতিটি থানায় বিশেষায়িত ‘সার্ভিস ডেস্ক’ চালু রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত নারী কর্মকর্তার অভাবে নারী কনস্টেবল বা পুরুষ এসআই দিয়ে এসব ডেস্ক চালানো হচ্ছে। নারী কনস্টেবলরা প্রাথমিক অভিযোগ নিলেও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে মামলার তদন্ত, সুরতহাল বা অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার দায়িত্ব তাদের থাকে না। ফলে বাধ্য হয়ে স্পর্শকাতর এসব মামলার তদন্তভার পুরুষ এসআইদেরই দিতে হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, পুলিশে নারী সদস্যের সংখ্যা ১৭ হাজার ৯১৩। এর মধ্যে নারী সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রয়েছেন মাত্র ৯৯৮ জন। তাদের একটি বড় অংশ পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত থাকায় থানাগুলোতে নারী এসআইয়ের পদ প্রায়ই শূন্য থাকছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশ সদর দপ্তর ও সরকার চাইলে দ্রুত এ সংকটের সমাধান করতে পারে। বিশেষ পদোন্নতির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৫৫ জন নারী এএসআই দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। বিদ্যমান শূন্যপদ ও নীতিমালার আলোকে তাদের দ্রুত পদোন্নতি দিলে থানা পর্যায়ে নারী কর্মকর্তার সংকট অনেকাংশে কমে আসবে। এছাড়া বাহিনীর অভ্যন্তরে থাকা যোগ্য নারী এএসআইদের পদোন্নতি দিয়েও এই ঘাটতি মেটানো সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ধর্ষণের ঘটনার পর ভুক্তভোগীকে মামলার প্রয়োজনে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা পুরুষ হলে প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের মধ্যে প্রবল লজ্জাবোধ কাজ করে। অনেক সময় তারা ভয় ও সংকোচে ব্যক্তিগত বা শারীরিক বিষয়গুলো বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এ কারণে অনেকেই আইনি লড়াই থেকে পিছিয়ে যান। নারীরা যেন নিজেদের ওপর হওয়া অন্যায়ের কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে নারী পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, নারী নির্যাতনের মামলাগুলোর তদন্ত কর্মকর্তাদের অত্যন্ত সংবেদনশীল হতে হয়। তদন্তকারী পুরুষ হলে যে সমস্যা, তা নয়; তবে নারী কর্মকর্তা হলে অবশ্যই ভুক্তভোগীর জন্য সেটি স্বস্তিদায়ক। পুলিশ বাহিনীতে যেহেতু নারী কর্মকর্তার ঘাটতি রয়েছে, তাই বিদ্যমান যোগ্য নারী সদস্যদের পদোন্নতি দিয়ে এ সংকট কমিয়ে আনতে হবে। তাহলে স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে ভুক্তভোগী নারীদের আর ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ম্লান হচ্ছে ইতিবাচক উদ্যোগ ছোট ভুলে বড় ক্ষতি বিএনপির

ছোট ভুলে বড় ক্ষতি বিএনপির

ইমেজ সংকটে জামায়াত তৃণমূলে অস্বস্তি চাপা অসন্তোষ

তৃণমূলে অস্বস্তি চাপা অসন্তোষ

স্পর্শকাতর মামলার তদন্তে পুরুষ কর্মকর্তা বিচার চাইতে গিয়ে উলটো হয়রানির শিকার নারী

বিচার চাইতে গিয়ে উলটো হয়রানির শিকার নারী

শিক্ষকতা পছন্দের পেশা করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষকতা পছন্দের পেশা করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম