যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী
অটোরিকশা চালকদের অবরোধ ভাঙচুর
তিনদিনের আলটিমেটাম
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
গ্রেফতার শ্রমিকদের মুক্তির দাবিতে সোমবার অবরোধ চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে রিকশা চালানোয় কলার ধরে হেনস্তা করছেন এক শ্রমিক -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সোমবার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা আকস্মিক সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও ধর্মঘট করেছেন। সকাল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাধারণ যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি প্যাডেলচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলে তারা বাধা দেন। তারা রিকশা ভাঙচুর করেন এবং জোর করে রিকশা থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেন। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ চালকদের ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব কারণে রাজধানীজুড়ে তীব্র জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
সকালে পল্টন, মানিকনগর, গুলশান ও বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চালকরা অবস্থান নেন। এরপর খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েক হাজার চালক সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে পল্টন, জিরো পয়েন্ট, দৈনিক বাংলা ও গুলিস্তান এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় গণপরিবহণ আটকে থাকায় অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় সমাবেশ থেকে সরকারকে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন অটোরিকশাচালকরা। অটোরিকশাচালক শ্রমিক সভাপতি এসএম আবু বক্কার বলেন, গ্যারেজগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হাজার হাজার চালকের জীবিকায় সংকট তৈরি করা হয়েছে। রাস্তায় বের হলেই পুলিশি হয়রানি ও জরিমানার শিকার হতে হচ্ছে। অবিলম্বে ডাম্পিং ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, তিনদিনের মধ্যে গ্যারেজের বিদ্যুৎ সংযোগ সচল এবং অটোরিকশা চলাচলের বিষয়ে যৌক্তিক সমাধান না হলে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন, ডাম্পিং ও জরিমানা বন্ধ এবং রাজধানীর সব সড়কে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান চালকরা। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক ছেড়ে মিছিল নিয়ে চালকরা পল্টনের দিকে চলে যান। এ সময় কাকরাইল মোড়ে বাস ভাঙচুর করা হয়।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, কয়েক হাজার অটোরিকশাচালক বিভিন্ন দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তারা মিছিল নিয়ে চলে যান। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, রিকশাচালকরা সভা-সমাবেশ করে ফিরে গেছেন। তাদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। অটোরিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে গুলশান ও বনানীতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাধারণ চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উত্তেজনা দেখা দেয়।
অটোরিকশা না চলায় নগরবাসীর স্বস্তি : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনভর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়। তবে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও নিম্নআয়ের যাত্রীরা বিকল্প যানবাহনের সংকটে পড়েন।
বিকালের দিকে কিছু এলাকায় আবার অটোরিকশা চলাচল শুরু হয়।
অবৈধ সংযোগে সরকারের গচ্চা বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা : রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বর্তমানে ১০ লাখের বেশি। এসব অটোরিকশা প্রতিদিন ৭৫০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। যা দেশের মোট দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ। রাজধানীতে বৈধ চার্জিং স্টেশন রয়েছে ৩ হাজার ৩০০টি। বিপরীতে ৪৮ হাজার ১৩৬টিরও বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজ গড়ে উঠেছে।
অভিযোগ-বৈদ্যুতিক খুঁটি ও লাইন থেকে সরাসরি তার টেনে এসব গ্যারেজে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ চুরির কারণে সরকারের প্রতি বছর ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগ জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ তৈরি করছে। এসব অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল রাজধানীর যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।
