Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

মেসির ‘শেষের কবিতা’

Advertisement

পারভেজ আলম চৌধুরী

পারভেজ আলম চৌধুরী

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মেসির ‘শেষের কবিতা’

Advertisement

সাঁঝেরবেলা ফেলে সকল খেলা নীড়ে পাখি ফিরে যায়। সব পাখি ফেরে কি! কোনো কোনো পাখি নীড়ে ফিরে আর ওড়ে না। এই গল্প আকাশি নীল-সাদা নীড়ের। যে নীড়ে অতল হতাশা ও হাহাকার। পাখি আর গান গাইবে না। আমরা লিওনেল মেসি মহাকাব্যের মহাসমাপ্তির কথা বলছি। বুধবার সকালে ঘুম ভাঙার পর আপনি হয়তো দেখে থাকবেন, ফুটবলবিশ্ব মেসিশূন্য। আর্জেন্টিনাকে ‘আদিওস’ (স্প্যানিশ শব্দের বাংলা অর্থ বিদায়) জানিয়েছেন জাদুকর চোখের জলে। আকাশি-সাদা ফুটবলের জলসায় নীরব হয়ে গেলেন জাদুকর। বাংলাদেশে যখন বুধবার ভোর ৫টা, আর্জেন্টিনায় তখন মঙ্গলবার রাত ৮টা। বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের ৮৫ হাজার সৌভাগ্যবান দর্শকের নীরব বেদনা ছাপিয়ে এই গ্রহের অজস্র গৃহকোণে ফুটবল ভক্তদের দুচোখে অশ্রু। আকাশি-সাদা জার্সিতে মেসির সূর্যাস্ত এই পৃথিবী কাল দেখেছে সূর্যোদয়েও। তার জীবনে ‘সবচেয়ে দুঃখের দিন’ ফুটবল অনুরাগীদের দুই চোখ ভিজিয়েছে। বাংলাদেশি ভক্তরা বলেছে, ‘বিদায় জাদুকর। তোমার মতো আর কেউ আসবে না।’ ফরাসিরা ‘আদিউ’ ও জাপানিরা বলেছে ‘সায়োনারা’।

আর মেসি? বিদায় মঞ্চে সমস্ত বিষণ্নতা অনুরণিত হয়েছে অজস্র বেদনার স্বরলিপিতে। ‘২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জার্সির সম্মান রক্ষা করা আমার জন্য ভীষণ গর্বের। আমরা যখন কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে গিয়েছি, তখনো লড়াই থামাইনি। যদি সম্ভব হতো, তাহলে সারা জীবন এই জার্সি গায়ে দিয়েই খেলতাম,’ জাদুকরের কথায় আনন্দ-আক্ষেপ মিলেমিশে একাকার। এই বিদায় তার জন্য দুঃখের। সব বিদায়ের গল্পে কষ্ট থাকে। থাকে যন্ত্রণা। তবু প্রকৃতির নিয়মে বিদায় নিতে হয়। যার শুরু, তার শেষও আছে।

গোটা মনুমেন্তাল আবেগে কেঁপে উঠেছে বারবার। পোশাকি নাম ছিল মেসির বিদায়ি ম্যাচ। আসলে তো ছিল মহাকাব্যের মহাসমাপ্তি। ম্যাচের ১০ মিনিটে রেফারি খেলা থামিয়ে দেন। আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিধারীর প্রতি এক অভূতপূর্ব বিদায় সংবর্ধনা। তখন কি দূর আকাশ থেকে আদরের শিষ্যের প্রতি আশীর্বাদ বর্ষণ করেছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা!

২১ বছর আগে মাত্র ৪৭ সেকেন্ডে লাল কার্ডে যার দুঃস্বপ্নের অভিষেক হয়েছিল আর্জেন্টিনার হয়ে, বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, ব্যর্থতার রোদে হেঁটে, সাফল্যের সুরভিত উদ্যান ঘুরে ১৮-র সেই মেসি ৩৯-এ থামলেন। পেছনে পড়ে রইল দেশের হয়ে ২০৮ ম্যাচ, ১২৬ গোল এবং ৭০ অ্যাসিস্টের অজস্র গল্প। ‘পথের ক্লান্তি ভুলে...’ এখন তার শীতল হওয়ার সময়।

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে তিন পৃষ্ঠার আবেগঘন পোস্টে মহানায়ক জানিয়ে দিয়েছিলেন, এবার বিদায়। এই দিন যে আসবে, মেসি জানতেন। সবাই জানত। কিন্তু কোনো কোনো হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালাকে কখনো কখনো বলতে ইচ্ছে করে-কাভি আলউইদা না ক্যাহনা। তবু বিদায় নিতে হয়। কারও কারও বিদায় নিঃশব্দে অগুণতি মানুষকে কাঁদায়। আরও কিছুদিন কি আকাশি নীল-সাদা জার্সিতে খেলে যেতে পারতেন না? আরও কিছু কি দিতে পারতেন না দেশকে? আর্জেন্টাইনরা তো বটেই, ফুটবলবোদ্ধারাও নিশ্চয় এই আক্ষেপে পুড়েছে বিদায়ি ম্যাচে আফ্রিকার দেশ বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় দেখে। যে ম্যাচজুড়ে শুধু মেসি। একটি গোল। দুটি অ্যাসিস্ট। তার আস্তিনে এখনো আরও কার্ড ছিল খেলার মতো। জাদু এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তাহলে? জাদুকর নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এই পথ এখানেই শেষ।

২০২৬ বিশ্বকাপের পর দেশের হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে। নীল-সাদায় মেসির শেষ ম্যাচে মাঠে ছিলেন মা সেলিয়া, স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো, তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও সিরো। বিদায়ি ম্যাচের জন্য বিশেষ জার্সি তৈরি করা হয়েছিল। নীল-সাদায় ছিল বিশ্বজয়ের সোনালি ছোঁয়া। ম্যাচের আগে আতশবাজির আলোর রোশনাইয়ে ফুটে ওঠে মেসির প্রতিকৃতি। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং দর্শকদের চোখ আর্দ্র। আর্জেন্টিনার জাতীয় সংগীত বাজার সময় মেসির চোখেও প্লাবন। তিন সন্তানকে নিয়ে আবেগপ্রবণ বাবা উদ্বেল হলেন ‘ওলে ওলে মেসি’ ধ্বনিতে। ‘গ্রাসিয়াস ১০’ লেখা বিশাল জার্সি আর্জেন্টিনার অধিনায়কের হাতে।

মেসি শুরু করেন চেনা ছন্দে। প্রথমার্ধে গোল হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মেসির কর্নার থেকে গোল ওতামেন্দির। ৩৮ বছর বয়সি ডিফেন্ডার ওতামেন্দিরও এটা বিদায়ি ম্যাচ ছিল। ৬১ মিনিটে মেসির পাস থেকে নিকো পাজের লক্ষ্যভেদ। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়ানো শট দেখে অনেকের মেসির কথাই হয়তো মনে পড়েছে। ৭১ মিনিটে পেনালটি থেকে মেসির গোল। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১২৬তম গোল। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা জয়। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মহানায়ক চিরদিন ভক্তদের হৃদয়জুড়ে থাকবেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

নতুন আলোচনা রিকনসিলিয়েশন

নতুন আলোচনা রিকনসিলিয়েশন

মেসির ‘শেষের কবিতা’

মেসির ‘শেষের কবিতা’

জ্বালানি তেলের প্রভাবে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি

জ্বালানি তেলের প্রভাবে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি

এলপিজি কারসাজির শেষ কোথায়

এলপিজি কারসাজির শেষ কোথায়

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম