ব্যাংককে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
উন্নয়ন সহযোগীরা ঢাকার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী
দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ফের বৈঠক * ব্যাংককে সম্মেলনস্থলের আশপাশে দুই দিন ধরে বিক্ষোভ
Advertisement
আবদুল্লাহ আল মামুন, ব্যাংকক (থাইল্যান্ড) থেকে
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার চ্যালেঞ্জের মধ্যে বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংকট মোকাবিলা, অর্থনৈতিক সংস্কার ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ সরকার। তবে ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ, সংস্কারের শর্ত এবং অর্থায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আবারও আলোচনায় বসবে বাংলাদেশ ও আইএমএফের সংশ্লিষ্ট দল। ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে শুক্রবার বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঋণ কর্মসূচি, রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকেও বৈঠককে ফলপ্রসূ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে থাকে মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও চলমান কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন অর্থমন্ত্রী। পরে তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে উভয় পক্ষ আবার বসবে। দুই দলের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করে বিভিন্ন ইস্যুতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, জাইকা ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। বর্তমান বছরটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সরকার জনগণের কাছে যে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এক ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেই রাজস্ব আয় বাড়ানোর অঙ্গীকার রয়েছে। অতীতে কর অব্যাহতি, কর ফাঁকি এবং পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর ব্যবস্থার কারণে রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। সরকার টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং রাজস্ব আদায়ে অগ্রগতি হচ্ছে। তিতুমীর বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কার শুধু প্রতিশ্রুতিতে নয়, বাস্তব ফলাফলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাস প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, সংস্কার বাস্তবায়িত না হলে অর্থনীতি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে, সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে পূর্বাভাসগুলো বুঝতে হবে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন। আস্থা ফিরে আসায় অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের চাপ কমেছে এবং অনেকে নতুন করে আমানত রাখছেন।
ঋণনীতির স্বচ্ছতা দাবিতে পথে পথে বিক্ষোভ : আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভাকে কেন্দ্র করে ব্যাংককে গত দুদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। কৃষক, শ্রমিক ও পরিবেশ অধিকার সংগঠনের কর্মীরাসহ বিভিন্ন নাগরিক গোষ্ঠী সম্মেলন কেন্দ্রের আশপাশে এ বিক্ষোভ করছে। তারা ঋণনীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাব এবং নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের দাবিতে তারা সম্মেলনস্থলের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। বিক্ষোভের কারণে সম্মেলনকেন্দ্রের আশপাশের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুরো সম্মেলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক প্রস্তুতি দেখা গেছে। গত ১২ অক্টোবর ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা শুরু হয়েছে। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ সভা চলবে।
