রাজনাথ সিংয়ের অভিযোগ
বাংলাদেশের মতো সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে কংগ্রেস
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিজেপি নেতা রাজনাথ সিং বলেছেন, বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আদলে ভারতে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা। শুক্রবার উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সভায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেন তিনি।
রাজনাথ সিংয়ের অভিযোগ-নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে হাতিয়ার করে দেশের তরুণদের রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে রাজনাথের এ মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।
রাজনাথ সিং বলেন, কংগ্রেস ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো বাংলাদেশে সরকার পতনের ঘটনা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।
সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠনের সভানেত্রী নেহা বোরার বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের প্রশংসা এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের সরকার পরিবর্তন সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি-নির্বাচন কমিশন বা ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আপত্তিই বিরোধীদের আন্দোলনের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়; বরং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা দুর্বল করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। তার মতে, গণতন্ত্রের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কিংবা দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করা গ্রহণযোগ্য নয়।
রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে রাজনাথ বলেন, বিরোধী দলনেতার উচিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো। দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার দায়িত্ব সব রাজনৈতিক দলেরই রয়েছে। কংগ্রেসের অতীত ভূমিকা নিয়েও সরব হন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গা এবং ১৯৯০ সালে অযোধ্যা আন্দোলনের সময় করসেবকদের ওপর গুলি চালনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। তার অভিযোগ-অতীতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার ক্ষতি করেছে এই দল।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কংগ্রেসের বর্তমান অবস্থানেরও সমালোচনা করেন রাজনাথ। সাবেক নির্বাচন কমিশনার এমএস গিল ও নবীন চাওলার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এখন সরব হলেও অতীতে কংগ্রেসের আমলে কমিশনের নিয়োগ ও কাজকর্ম নিয়ে বিতর্ক ছিল।
তবে বিরোধীদের বক্তব্য-নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য-সরকার পরিবর্তনের দাবি নির্বাচনি ব্যবস্থার মধ্য দিয়েও তোলা যায়।
ফলে দিল্লির আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত এখন আরও তীব্র। একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ, অন্যদিকে আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বিজেপি। এ পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
