জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে লানা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনীতিক লানা নুসায়বেহকে সমর্থন দেওয়ার দিকে ঝুঁকছে ব্রিটেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি দেশটি। ব্রিটিশ সরকারের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
সুদানের গৃহযুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও নুসায়বেহর প্রার্থিতা সামনে এসেছে। আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে আধা সামরিক বাহিনী ‘র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’কে (আরএসএফ) সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই বাহিনীর নির্বিচার হত্যাকাণ্ডগুলোতে ‘গণহত্যার সুস্পষ্ট লক্ষণ’ রয়েছে। তবে ইউএই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইসরাইলের সঙ্গে আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেও নুসায়বেহর প্রার্থিতা সমালোচনার মুখে পড়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য মহাসচিব পদে নুসায়বেহর প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের প্রধান অগ্রাধিকার হলো এমন এক প্রার্থী খুঁজে বের করা, যিনি আমাদের বৈশ্বিক সংকটগুলো মোকাবিলায় জাতিসংঘকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
ওই মুখপাত্র বলেন, জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসাবে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নিতে আমরা প্রার্থীদের যোগ্যতার ওপর নজর দিচ্ছি। আমরা কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করব না।
কে এই নুসায়বেহ : নির্বাচিত হলে ৪৮ বছর বয়সি নুসায়বেহ হবেন জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব এবং মিসরের বুট্রোস বুট্রোস ঘালির পর দ্বিতীয় আরব মহাসচিব। গত সপ্তাহে মহাসচিবের দৌড়ে নুসায়বেহর যোগ দেওয়ার আগে ছয়টি অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটি হয়েছে। এসব ভোটাভুটির কোনোটিতেই জাতিসংঘের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ স্থায়ী সদস্য (যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স) যৌথভাবে কোনো প্রার্থীর বিষয়ে একমত হতে পারেনি।
বর্তমান মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হবে। নিরাপত্তা পরিষদকে ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের জন্য একজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে হবে। তবে তার আগেই পরিষদ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
১৯৭৮ সালে জন্মগ্রহণকারী নুসায়বেহ ইউনেস্কোর পরামর্শক ও গলফ রিসার্চ সেন্টারের গবেষক হিসাবে কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি পরিকল্পনা বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক হন। ২০১৩ সালে নুসায়বেহ জাতিসংঘে আমিরাতের প্রথম নারী স্থায়ী প্রতিনিধি নিযুক্ত হন এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তিনি সাধারণ পরিষদের সহসভাপতি, ‘ইউএন উইমেন’ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি ও দুবার নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
নুসায়বেহ বংশসূত্রে ফিলিস্তিনি ও তার পরিবার জেরুজালেমের বাসিন্দা। তার দাদা আনোয়ার নুসায়বেহ ছিলেন প্রখ্যাত ফিলিস্তিনি রাজনীতিবিদ। জর্ডান সরকার যখন পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম নিয়ন্ত্রণ করত, তখন তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং যুক্তরাজ্যে জর্ডানের রাষ্ট্রদূত হিসাবেও কাজ করেছেন। গত সপ্তাহে তার প্রচার শুরুর বিজ্ঞপ্তিতে নুসায়বেহ বলেন, আমি মহাসচিব পদে প্রার্থী হয়েছি। কারণ, আমি বিশ্বাস করি, এখন জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার সময়। আরও আগে পদক্ষেপ নেওয়া, মতপার্থক্য সত্ত্বেও মানুষকে এক ছাতার নিচে আনা এবং ফলপ্রসূ ফলাফল না আসা পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
