Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

ঐতিহ্যে ইসলাম

কিবলাহ পরিবর্তনের ঐতিহাসিক সাক্ষী মসজিদে কিবলাতাইন

Advertisement

Icon

মুহাম্মদ ইমদাদুল হক ফয়েজী

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কিবলাহ পরিবর্তনের ঐতিহাসিক সাক্ষী মসজিদে কিবলাতাইন

মসজিদে কিবলাতাইন। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

ইসলামের ইতিহাসে কিবলাহ পরিবর্তন একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এটি শুধু সালাতের দিক পরিবর্তন ছিল না; বরং মুসলিম উম্মাহর স্বাতন্ত্র্য, ইমানের দৃঢ়তা ও আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের এক ঐশী ঘোষণা। এ ঐতিহাসিক ঘটনার জীবন্ত সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে মদিনা মুনাওয়ারার বনু সালামাহ এলাকায় অবস্থিত মসজিদে কিবলাতাইন অর্থাৎ ‘দুই কিবলাহর মসজিদ’।

ইসলামের প্রথম যুগে মুসলমানরা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন। মদিনায় হিজরতের পরও প্রায় ষোলো মাস এভাবেই সালাত আদায় করা হয়। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) কাবা শরিফকে কিবলাহ হিসাবে পাওয়ার আকাক্সক্ষা পোষণ করতেন। তখন আল্লাহতায়ালা আয়াত নাজিল করেন-‘আমি তো দেখছি, আপনি বারবার আকাশের দিকে তাকাচ্ছেন। অতএব, আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব, যা আপনি পছন্দ করেন। সুতরাং আপনি আপনার মুখ মসজিদুল হারামের দিকে ফিরিয়ে নিন।’ (সূরা আল-বাকারা : ১৪৪)

হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে বনু সালামাহ এলাকায় রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। সালাতরত অবস্থায় কিবলাহ পরিবর্তনের নির্দেশ এলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন। সাহাবায়ে কেরামও তার অনুসরণ করেন। ফলে একই সালাতের এক অংশ বায়তুল মুকাদ্দাসমুখী এবং অপর অংশ কাবামুখী হয়ে আদায় হয়। কিবলাহ পরিবর্তনের সংবাদ মদিনার অন্যান্য মসজিদেও দ্রুত পৌঁছে যায়। সংবাদ শোনামাত্র মুসল্লিরা সালাতের মধ্যেই কাবামুখী হয়ে যান। এটি ছিল আল্লাহর নির্দেশের প্রতি সাহাবাদের নিঃশর্ত আনুগত্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

পরে বনু সালামাহর সেই মসজিদ ‘মসজিদে কিবলাতাইন’ নামে পরিচিতি লাভ করে। বিভিন্ন যুগে মুসলিম শাসকরা মসজিদটির সংস্কার ও সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে এটি আধুনিক স্থাপত্যে নির্মিত হলেও এর ঐতিহাসিক মর্যাদা অটুট রয়েছে। মসজিদে কিবলাতাইন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মুমিনের প্রকৃত পরিচয় আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আনুগত্যে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমান ভাষা, বর্ণ ও সংস্কৃতিতে ভিন্ন হলেও একই কিবলার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেন। তাই এ মসজিদ শুধু ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্ন নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, স্বাতন্ত্র্য ও আনুগত্যের চিরন্তন প্রতীক।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম