Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

নবী নাম জপে যেজন সেই তো দোজাহানের ধনী

Advertisement

Icon

মুহাম্মদ জহিরুল আলম

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নবী নাম জপে যেজন সেই তো দোজাহানের ধনী

Advertisement

শেষ হলো পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস। আশেকে রাসূলদের প্রাণের স্পন্দন, কুলকায়েনাতের রহমত, মহান আল্লাহর হাবিব, দয়াল দরদি রাসূল, হজরত মোহাম্মাদ মোস্তফা আহমদ মোজতবা হজরত মোহাম্মাদ (সা.)-এর শুভ আগমনী মাস। রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার সুবেহ সাদেকের সময় তিনি ধূলির ধরায় আগমন করেন। যার আগমনে একখানা আলোর জ্যোতি প্রকাশিত হয়ে কাবা ঘর ও তৎসংলগ্ন পর্বতগুলো আলোকিত হয়ে ওঠে। আকাশ ও জমিনের সবকিছু আল্লাহর তাসবিহ বা প্রশংসা জ্ঞাপন করেছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য রাসূল (সা.)-এর মাঝে রয়েছে সুন্দরতম আদর্শ’। (সূরা আহজাব আয়াত ২১)। নিঃসন্দেহে আমাদের কর্তব্য হলো রাসূল (সা.)-এর আদর্শগুলো নিজ জীবনে ধারণ করা। পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস এ বার্তাই আমাদের স্মরণ করে দিয়ে গেল।

সৃষ্টির শুরু থেকেই দয়াময় আল্লাহ প্রতিটি জাতির জন্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছিলেন। সর্বকালের, সর্ব যুগের, সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব দয়াল রাসূল হজরত মুহাম্মাদ (সা.) হলেন সৃষ্টি জগতের জন্য রহমত, কল্যাণ ও হেদায়েতের মূল। পবিত্র কুরআনে সূরা আল আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ এরশাদ করেন, ‘হে রাসূল (সা.)! আমি তো আপনাকে জগৎগুলোর প্রতি শুধু রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ তার প্রতি জানাই দরুদ ও সালাম। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ নিজে ও তার ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে বিশ্বাসী! তোমরাও তার ওপর দরুদ পাঠ করো ও শ্রদ্ধার সঙ্গে সালাম পেশ করো।’ (সূরা আল আহজাব আয়াত ৫৬)। অন্যত্র এরশাদ হচ্ছে, ‘হে রাসূল (সা.)! আমি আপনার জিকির বা স্মরণকে সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করেছি।’ (সূরা আল্ ইনশিরাহ আয়াত ৪)।

সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় মহান আল্লাহ তার সব রূপ ও গুণের ধারক রূপে সর্বপ্রথম ‘নুরে মোহাম্মাদী’ সৃষ্টি করেন। মহিমান্বিত আল্লাহ্ বলেন, ‘আল্লাহর কাছ থেকে এক নূর ও স্পষ্ট কিতাব তোমাদের কাছে এসেছে।’ (সূরা আল মায়িদাহ আয়াত ১৫)। মহান আল্লাহ্র অশেষ দয়া, আমরা এমন নবীর উম্মত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছি। আমাদের প্রতি রাসূল (সা.)-এর ভালোবাসা কোনো বিশেষণ দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। শুধু একটি বিষয়কে নিয়ে যদি বলি, দেখতে পাব-মহান আল্লাহর দরবারে প্রত্যেক নবীর একটি করে দোয়া বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। প্রত্যেক নবী তাদের নিজেদের ব্যাপারে সে দোয়া থাকবে আল্লাহর দরবারে। কিন্তু কুল-কায়েনাতের রহমত দয়াল রাসূল (সা.)-এর সে দোয়া থাকবে উম্মতের সাফায়াতের জন্য। হাদিস শরিফে এ কথারও উল্লেখ আছে, অন্য নবীরা তাদের গুণাহগার উম্মতের শাফায়াত করার জন্য রাসূল (সা.)কে অনুরোধ করবেন। পবিত্র কুরআনে সূরা নহল-এর ৮৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘সেদিন (শেষ বিচারের দিন) আমি প্রত্যেক সম্প্রদায় হতে তাদেরই একজন নবী সাক্ষী হিসাবে উত্থিত করব এবং আপনাকে [রাসূল (সা.)] আমি তাদের সত্যয়নকারী হিসাবে আনয়ন করব।’

সবার ওপর রাসূলকে ভালোবাসতে হবে। বুখারি শরিফ থেকে আমরা পাই; রাসূল (সা.) ঘোষণা করেছেন ‘যে ব্যক্তি নিজের পিতা-মাতা, সন্তানসন্ততি ও অন্যসব মানুষ অপেক্ষা আমাকে বেশি ভালো না বাসবে, সে মুমিন হতে পারবে না।’ রাসূল (সা.)কে যে যতটুকু ভালোবাসেন, তিনি ততটুকু ইমানদার।

দয়াময় আল্লাহ রাসূল (সা.)-কে সব কিছুর ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন এবং আমাদের তাকে ভালোবাসতে বলেছেন। মহান আল্লাহ নিজেই নবীপ্রেম শিক্ষা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন,-‘(হে হাবিব) আপনি বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন, তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।’ (সূরা আলে ইমরান আয়াত ৩১)। দয়াল রাসূল (সা.)-এর ভালোবাসার মাধ্যমেই রহমত-বরকত লাভ হয়। যারা আল্লাহর হাবিবকে ভালোবাসতে পেরেছেন, তারা আল্লাহকে ভালোবাসতে পেরেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ আরও বলেন, ‘যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল।’ (সূরা নিসা আয়াত ৮০)।

রাসূল (সা.)কে ভালোবাসার নিদর্শন হলো, নিজ জীবনে রাসূল (সা.)-এর শিক্ষা, আদর্শ ও চরিত্রের অনুশীলন করা। কারণ; যে যাকে ভালোবাসবে, সে তাকে অনুসরণ করবে। আজকের এ অশান্ত ও অনিরাপদ পৃথিবীকে বাস যোগ্য করতে হলে শান্তির চরিত্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

লেখক : শিক্ষক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম