বিদ্যুতের দাম বাড়ালে স্টিলশিল্পে বিপর্যয় নামবে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি-বেসরকারি খাতে নির্মাণকাজের গতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় দেশে স্টিলের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। উচ্চ ব্যাংক ঋণের সুদ, ঋণের অপ্রতুলতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং গ্যাস সংযোগ ও কার্যকরী মূলধন সংকটে স্টিল মিলগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এর ওপর নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে স্টিলশিল্পে বিপর্যয় নেমে আসবে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এমন আশঙ্কার কথা জানান।
রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, গত কয়েক বছরে শিল্প খাতে বিদ্যুতের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কিছু ক্ষেত্রে প্রায় ৩০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে কিছু কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি বলেন, এ শিল্পে কোনো সিস্টেম লস, ট্রান্সমিশন লস বা ডিস্ট্রিবিউশন লস নেই। এরপরও বিভিন্ন ধরনের অযৌক্তিক চার্জ যেমন: ডিমান্ড চার্জ, অতিরিক্ত ভ্যাট, পাওয়ার ফ্যাক্টর জরিমানা আরোপ করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এগুলো বিদ্যুতের কার্যকর দাম আরও বাড়িয়ে দেওয়ার একটি পরোক্ষ পদ্ধতি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব সুমন চৌধুরী, সহসভাপতি রাজু আহমেদ, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাসাদুল আলম প্রমুখ।
জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, বিদ্যুতের সংযোগের সময় শিল্পকারখানাগুলোর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জামানত নেওয়া হয়। এ জামানতের কারণে ব্যাংক ঋণের সুদ উদ্যোক্তাদের টানতে হচ্ছে। প্রতিবছর ৫০ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ নেওয়া হয়। এ ব্যয়ের কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন জরুরি। শিল্পের স্বার্থে সরকারকে বিদ্যুতে সঠিক ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দেশের শিল্প খাতে কোনো অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি বা নতুন আর্থিক চাপ বহনের অবস্থায় নেই। শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে না পারলে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, রপ্তানি, অবকাঠামো উন্নয়ন-সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্ক্র্যাপ থেকে স্টিল বানাতে প্রতি টনে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ খরচ হয়। এ অবস্থায় বিদ্যুতের দাম যত শতাংশ বাড়বে, সেই অনুপাতে স্টিলের দাম বাড়বে। সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে তছরুপ বন্ধ করতে পারলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। এরপরও যদি দাম বাড়াতেই হয়, সেটা এক বছর পর হলে খাতটি হয়তো টিকে থাকতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব সুমন চৌধুরী বলেন, দেশের মিলগুলোর বছরে ১ কোটি ২০ লাখ টন স্টিল উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। বাজারে চাহিদা আছে ৭০-৭৫ লাখ টনের। সরকার নতুন প্রকল্প হাতে না নেওয়ায় এ চাহিদা আরও কমে গেছে। বর্তমানে স্টিলের চাহিদা ৪০ লাখ টনে এসে নেমেছে। এ অবস্থায় কোনোভাবেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয়। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে অনেক মিল বন্ধ হয়ে যাবে।
