৫৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ
সালমান এফ রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, তার ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামে অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করেন। কোনো ধরনের যথাযথ যাচাই-বাছাই ও পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদন ও বর্ধিত করা হয়।
দুদক বলছে, এভাবে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকা নগদে ট্রান্সফারের মাধ্যমে বিতরণ ও উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ এতে আইএফআইসি ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবসায়িক কোনো অস্তিত্ব ছিল না। কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠানটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি-সংক্রান্ত সার্কুলার এবং আইএফআইসি ব্যাংকের সিআরএম পলিসি-২০১৭-এর বিধিবিধান লঙ্ঘন করে ঋণ দেওয়া হয়। প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ব্যাংকিং নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ঋণ অনুমোদন ও বর্ধিত করা হয়।
আত্মসাৎ করা অর্থের প্রকৃতি, উৎস ও গন্তব্য আড়াল করতে বিপুল অর্থ নগদে উত্তোলন করা হয়। পরে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের অবস্থান গোপন করে মানি লন্ডারিং করা হয়েছে বলেও অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এ ঘটনায় বেক্সিমকো গ্রুপ ও আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান এবং আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এতে পেনাল কোডের ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
