বিজিবির ওপর হামলা
ধস্তাধস্তির সময় গুলি বেরিয়ে চোরাকারবারি নিহত
Advertisement
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বিজিবির টহল দলের ওপর চোরাকারবারিদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক বিজিবি সদস্য আহত হন। বিজিবি সদস্যের সঙ্গে চোরাকারবারির ধস্তাধস্তির সময় গুলি বেরিয়ে নোমান আলী (৩২) নামে এক চোরাকারবারি নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে হালুয়াঘাট উপজেলার তেলিখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নোমানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি হালুয়াঘাট উপজেলার বেতপুরী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে এবং স্থানীয় বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার ছিলেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে।
৩৯ বিজিবির পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, তেলিখালী বিওপির শূন্যরেখা থেকে এক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঝলঝলিয়ায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে পণ্য আটক করে ফিরছিলেন বিজিবির সদস্যরা। পথে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করা হয়। এরপর হামলা অব্যাহত থাকায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান বিজিবি সদস্যরা। এতে চোরাকারবারি নোমান গুলিবিদ্ধ হন।
নিহতের ভাই আবু রায়হান অভিযোগ করেন, ‘ভারত থেকে গরু আনার বিষয়ে বিজিবির সঙ্গে তাদের লেনদেন ছিল এবং প্রতি সপ্তাহে তিন লাখ টাকা দেওয়া হতো। টাকা সময়মতো দেয়নি বলেই গরুগুলো নিয়ে যেতে চেয়েছিল। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে একটি গরু নিয়ে যেতে বলেছিল। কিন্তু বিজিবি সদস্যরা তা মানতে রাজি হননি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জব্বার বলেন, ‘সীমান্ত এলাকার অনেকেই গরুর ব্যবসা করেন। গরু চোরাচালানের ব্যাপারে বিজিবির সঙ্গে সপ্তাহে তিন লাখ টাকা কন্ট্রাক হয়েছে। সেই টাকা না দেওয়ার কারণে গরু আটক করা হয়। নোমান বিজিবি সদসদ্যের বলেছিল, গরু ছেড়ে দেন টাকা পেয়ে যাবেন। এভাবে গুলি করে হত্যার তদন্ত ও বিচার চাই।’
হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নোমানের মৃত্যুর পর বিজিবি সদস্যরা প্রথমে হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়নি এবং লাশ দেখতে গেলে স্বজন ও স্থানীয়দের বাধা দেয়। এতে উপস্থিত উৎসুখ জনতার মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার ব্যাপারে ৩৯ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজিদ বলেন, ‘ভোর ৫টার দিকে টহলরত বিজিবির সদস্যরা চারটি গরু আটক করে। চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় সতর্ক করতে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করা হয়। বিজিবির যে সদস্য ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছিল তাকে পেছন থেকে চোরাকারবারিদের একজন ঝাপটে ধরলে গুলিভর্তি রাইফেল থেকে একটি গুলি বের হয়ে যায়। সেই গুলিতে সামনে থাকা নোমান গুলিবিদ্ধ হয়। মাত্র ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে যায়।’
হালুয়াঘাট থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, বিজিবির গুলিতে একজন মারা গেছেন। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
