ইউএনএফপিএ ও ইউনিসেফের প্রতিবেদন
দক্ষিণ এশিয়ায় বাল্যবিবাহে শীর্ষে বাংলাদেশ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বে বাল্যবিবাহের হার সবচেয়ে বেশি থাকা দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। এদেশে বাল্যবিবাহের হার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। যদিও গত ছয় বছরে বাল্যবিবাহের হার ৪ শতাংশ কমেছে। রোববার জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭-এর সংস্কারের লক্ষ্যে পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বাল্যবিবাহ নিরসনে পরিচালিত বৈশ্বিক কর্মসূচির আওতায় ইউনিসেফের সঙ্গে সংস্থাটি যৌথভাবে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০১৯ সালে ১৮ বছর হওয়ার আগে কন্যাশিশুদের বিয়ের হার ছিল ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে কমে ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ হয়। এরপরও দেশে এখনো আনুমানিক ৪ কোটি ১৬ লাখ বাল্যবধূ রয়েছে। তাদের মধ্যে ২ কোটি ২৩ লাখ শিশুর বিয়ে হয়েছে বয়স ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দারিদ্র্য, ক্ষতিকর সামাজিক ও জেন্ডারভিত্তিক রীতিনীতি, মানসম্মত শিক্ষার অভাব, কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাই বাল্যবিবাহের মূল কারণ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ ও বাস্তুচ্যুতি এসব সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বাল্যবিবাহের কারণে কন্যাশিশুদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়ছে, যা তাদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। জাতীয় তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশে কিশোরীদের সন্তান জন্মদানের হারও বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন (সিএমআরএ)-২০১৭ এবং ২০১৮ সালের বিধিমালার মাধ্যমে সরকার বাল্যবিবাহ নিরসনে ইতিবাচক অঙ্গীকার দেখিয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় হেল্পলাইনের ব্যবহার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।
তবে আইনের ফাঁকফোকর ও বাস্তবায়নের দুর্বলতা আইনের কার্যকারিতাকে সীমিত করে ফেলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে কন্যাশিশুদের অধিকার রক্ষা এবং বাল্যবিবাহ নিরসনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আইনের ধারাবাহিক, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত প্রয়োগ নিশ্চিতের সুপারিশ করা হয়েছে।
