কোম্পানীগঞ্জে গ্যাসের সন্ধান
নতুন কূপে দিনে মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট
Advertisement
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নতুন গ্যাসকূপে পরীক্ষামূলক আগুন জ্বালানো হয়েছে। সোমবার তোলা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের রামপুর ইউনিয়নে সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের খননকাজ শেষে নতুন গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। কূপটির দুটি জোনে ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
সোমবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্নিপ্রজ্বালনের মাধ্যমে কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে আরেকটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।
রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) জানায়, চলতি বছরের ৮ জুলাই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক উদ্যোগে এবং বাপেক্স পরিচালিত ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নিজস্ব ‘বিজয়-১০’ রিগ বা খননযন্ত্র ব্যবহার করে সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সোমবার এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে চলা এই অভিযানে কূপটি ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীর পর্যন্ত সফলভাবে খনন করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে কূপটির দুটি আলাদা জোনে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, কূপটির এই দুই জোনে মোট ৯ হাজার ৭৬৯ কোটি ঘনফুট বা ৯৭ দশমিক ৬৯ বিসিএফ গ্যাসের মজুত রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করলে এই গ্যাসের আনুমানিক মূল্য ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।
প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক গ্যাস প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কূপটিতে গ্যাসের পাশাপাশি তেল বা অন্য কোনো খনিজ পদার্থ রয়েছে কি না, তা আগামী ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং ডিএসটি পরীক্ষা শেষে সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে।
বাপেক্সের ড্রিলিং ইনচার্জ রকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা খননকাজ শেষে আজ (সোমবার) অগ্নিপ্রজ্বালনের মাধ্যমে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও মো. মাসুদুর রহমান বলেন, নতুন এ গ্যাসের সন্ধান দেশের জ্বালানি খাতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জের পাশাপাশি নোয়াখালীর মানুষও এ খবরে উচ্ছ্বসিত।
নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, কোম্পানীগঞ্জে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া নোয়াখালীবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। এ আবিষ্কার দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।
এই সংসদ-সদস্য আরও বলেন, এ গ্যাস সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কোম্পানীগঞ্জসহ পুরো নোয়াখালীর শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও যেন এর সুফল পান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।
