বিআইডব্লিউটিসির নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল
প্রশ্নফাঁসে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বহাল
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষার ফল বাতিল হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে ভিডিওচিত্রসহ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। স্থগিত করা হয়েছে মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা। কিন্তু‘ যাদের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, সেই কর্মকর্তারা রয়েছেন বহাল তবিয়তে। তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং একই প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনেই নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ করপোরেশনে (বিআইডব্লিউটিসি) নিয়োগ নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সংস্থাটির চিফ পার্সোনেল ম্যানেজার (সিপিএম) মো. ফজলে রাব্বি ও ডেপুটি চিফ পার্সোনেল ম্যানেজার মো. রাজা মিয়া। তাদের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস এবং অর্থের বিনিময়ে প্রার্থীদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরে ১৮ ও ২৩ মে যুগান্তরে দুটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯ মে মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা স্থগিত করে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। পরে ১৭ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষার ফল বাতিল করে বিআইডব্লিউটিসি। তবে অভিযোগের তদন্ত কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এটিএম আব্দুল বারী ড্যানী সোমবার যুগান্তরকে বলেন, তিনি যোগদানের আগেই নিয়োগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সুপারিশে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
চেয়ারম্যান বলেন, মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রশ্নফাঁসের তেমন প্রমাণ না পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে যেহেতু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে, সেহেতু নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে বলে সুপারিশ করা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
তিনি আরও বলেন, এবার বিআইডব্লিউটিসি নিজেরা পরীক্ষা নেবে না। একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে, যাতে নতুন করে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।
২০২৬ সালের ১৫ মে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকের ৪০টি, ফার্মাসিস্টের চারটি এবং সহকারী ভান্ডাররক্ষকের চারটি পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন প্রায় ২৫ হাজার পরীক্ষার্থী।
অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার আগেই নির্দিষ্ট কয়েকজন প্রার্থীর হাতে প্রশ্নপত্রের কার্বন কপি পৌঁছে দেওয়া হয়। ফজলে রাব্বির দপ্তরের পিওন মো. আনোয়ার হোসেন, সাবেক বাজেট কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমানের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস হীরা এবং অস্থায়ী কর্মচারী রাসেল ও তানভীর হোসাইনকে অনিয়মের মাধ্যমে উত্তীর্ণ করানোর অভিযোগও রয়েছে।
যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ১৯ মে মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও অভিযোগকারীদের দাবি, ২১ মে অফিস ছুটির পর দপ্তরের একটি কক্ষে চার প্রার্থীকে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ সময় বিতর্কিত প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তাদের। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, তদন্ত কমিটি দায়সারা প্রতিবেদন দিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দিয়েছে। তাদের মতে, এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত করা প্রয়োজন ছিল।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা ফজলে রাব্বির বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। এর পর এসএমএস পাঠিয়েও তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়। তবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
