আ.লীগের ঝটিকা মিছিল
যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, ২ পুলিশ ক্লোজড
Advertisement
যশোর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যশোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পরদিন ভোরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সোমবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে শহরের বকুলতলা মোড়ে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। এছাড়া ঝটিকা মিছিল ও স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে।
ফেসবুকে ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, রাতের আঁধারে দুই দুর্বৃত্ত স্মৃতিস্তম্ভটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন জ্বলে ওঠার পর তিন যুবককে স্মৃতিস্তম্ভের মূল বেদি থেকে নেমে দ্রুত চলে যেতে দেখা যায়। এ সময় যুবকদের ‘শেখ হাসিনা’ ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
সোমবার বিকালে স্মৃতিস্তম্ভটিতে গিয়ে দেখা যায়, আগুন দেওয়ার কারণে পোড়ার কালো চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, শহরের দড়াটানা মোড়ের দিকে থেকে মোটরসাইকেল তিন দুর্বৃত্ত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের দিকে আসে। তাদের দুইজন পলিথিনে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আমরা সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেছি। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় দায়িত্বরত দুইজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তদন্তে তারা দোষী প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী রোববার ভোরে সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দিয়ে একটি মিছিল বের করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের বেশির ভাগের মুখে মাস্ক ছিল। এছাড়া নারীরা বোরকা পরে অংশ নেন। মিছিলটি শহরের লালদীঘির পাড় ও মাইকপট্টি হয়ে পলাতক পৌর কাউন্সিলর হাজি সুমনের বাড়ির সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের একটি ছোট ভিডিও ফুটেজ হাজি সুমনসহ তার কয়েকজন অনুসারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছাড়া হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পলাতক যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর কবির সুমন, ছাত্রলীগের সদর উপজেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার দৃশ্য প্রচার করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা গোপনে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে, তবে স্মৃতিস্তম্ভটি অক্ষত আছে। স্তম্ভের দক্ষিণ পাশে কালো চিহ্ন রয়েছে, যা দেখে বোঝা যায়, সেখানে আগুন দেওয়া হয়েছিল।
জেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডিসেম্বরে দেশে আসবেন-এতে দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবে স্বাভাবিক।’
এদিকে রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী নেতাকর্মীরা দেশকে অস্থিতিশীল করে তাদের যে মনোবাসনা পূরণের অপচেষ্টা করছে-দেশের মানুষ তা কখনোই মেনে নেবে না।
জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের লোকজন দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। প্রশাসন সেটি শক্ত হাতে দমন করছে। আমরা সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে বলব। জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের লোকজন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতে চায়। কিন্তু গত ১৭ বছরে তাদের যে অপকর্ম, তা মানুষ ভোলেনি। এসব নৈরাজ্যের মাধ্যমে পুনর্বাসনের চেষ্টা কখনোই দেশের জনগণ মেনে নেবে না।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলার ৯টি থানার পুলিশ ও ডিবি পুলিশ নাশকতার অভিযোগে মোট ৪১ জনকে আটক করেছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানা এলাকার ১৭ জন রয়েছেন, যাদের সাতজন সরাসরি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া চৌগাছা থানা পুলিশ দুজন, মনিরামপুর তিনজন, শার্শা দুজন, অভয়নগর চারজন, কেশবপুর তিনজন, বাঘারপাড়া চারজন, বেনাপোল পোর্ট থানা চারজন এবং ঝিকরগাছা থানা পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।
