বাকলিয়ায় প্রাচীর ভাঙতে বাধা
সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে দুই ভাই হাসপাতালে
Advertisement
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নগরীর বাকলিয়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত দুই ভাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। শুক্রবারের হামলায় আহত আবদুল ওয়াহেদ মুন্না ও মাইনুদ্দিন হাসান মিনহাজকে তিন দিনে ৩২ ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পরও আশঙ্কামুক্ত হননি। ছুরিকাঘাতে এক ভাইয়ের যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও আরেক ভাইয়ের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গেছে। তারা দুজনই চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা বিএনপি সমর্থক হিসাবে পরিচিত। তবে হামলার পর তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলেও ইতোমধ্যে একজন জামিনে বেরিয়ে গেছেন। গুরুতর আহত মুন্না ও মিনহাজের বোন রোজিনা আক্তার যুগান্তরকে বলেন, আমার দুই ভাই এখনো সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরতে পারেনি। তার আগেই জামিন নিয়ে বের হয়ে গেছে আসামি। দুই ভাইয়ের এমন পরিণতিতে পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। আহত দুই ভাই আন্দরকিল্লায় কম্পিউটারের দোকানে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করতেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার ভোরে বাকলিয়া থানার ভরাপুকুর পাড় এলাকায় সন্ত্রাসীরা মুন্না ও মিনহাজদের পারিবারিক জায়গা দখল করতে আসে। এতে বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা দুই ভাইকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শুক্রবার রাতে আহত মুন্নাকে টানা ৯ ঘণ্টা অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তার ৫টির মতো নাড়িভুঁড়ি কেটে গেছে। এই কারণে তাকে অস্ত্রোপচার করা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও চিকিৎসকের চেষ্টায় অপারেশন আপাতত সফল হয়েছে। একইভাবে মিনহাজকে ৩ ঘণ্টা অপারেশন করতে হয়েছে। এছাড়া তিন দিনে দুই ভাইকে ৩২ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে।
সূত্র জানায়, মুন্নারা তিন ভাই এক বোন। তাদের আবদুর রহমান নামে আরেকটি ভাই রয়েছেন। দুই ভাইয়ের অবস্থা দেখে তিনিও এখন পাগলপ্রায়। হামলার ঘটনায় তাদের বাবা আবদুল জলিল বাকলিয়া থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলায় আটজনের নামসহ আরও অজ্ঞাত ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হচ্ছে, হুমায়ুর ফারুক সজীব, সৈয়দ রুম্মন আফজর, আবদুল্লাহ আল হেলাল, এনামুল হক হাসান, আবদুল আল হারুন, আবদুর রব ও সরাফত খান। পুলিশ ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে হামলাকারী সজীব, রুম্মন আফজর ও আবদুল্লাহ আল হেলালকে গ্রেফতার করে।
এজাহারে আবদুল জলিল উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন (শুক্রবার) সকাল ৭টার দিকে এজাহারভুক্ত ৮ জনসহ ২০ থেকে ৩০ জন নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও কিরিচ নিয়ে তাদের বাড়ির সীমানায় প্রবেশ করেন। তারা সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করতে থাকেন। আবদুল জলিল ও তার ছেলেরা প্রাচীর ভাঙার কারণ জানতে চাইলে আসামিরা তাদের ওপর হামলা চালায়। হুমায়ুন ফারুক সজীব ছোরা দিয়ে বাদীর বড় ছেলে আবদুল ওয়াহেদ মুন্নার পেটের বাম পাশে উপর্যুপরি আঘাত করে। সজীবের নির্দেশে সৈয়দ রুম্মন আজফার ছোরা দিয়ে ছোট ছেলে মাঈন উদ্দিন হাসান মিনহাজের পেটের ডানপাশে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে দুই ভাই গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।
বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইউনুচ খন্দকার যুগান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিক গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে হেলাল নামে একজন রোববার জামিনে বেরিয়ে গেছেন। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
