অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
জেসমিন আক্তার
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সহকারী শিক্ষক, ভিক্টোরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার
[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]
প্রশ্ন : সাইবার অপরাধ কী? কীভাবে সাইবার অপরাধে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়, সংক্ষেপে লিখ।
উত্তর : সাইবার অপরাধ হল এমন এক ধরনের অপরাধ, যা ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের কারণে আমাদের জীবনে যেমন অনেক নতুন নতুন সুযোগ-সুবিধার সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক সে রকম সাইবার অপরাধ নামে পরিচিত সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক অপরাধের জন্ম হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে এ অপরাধগুলো করা হয় এবং অপরাধীরা সাইবার অপরাধ করার জন্য নিত্যনতুন পথ আবিষ্কার করে যাচ্ছে। নানাভাবে সাইবার অপরাধে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়। ইন্টারনেটে ব্যবহৃত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যদি আমরা সচেতনভাবে গ্রহণ করতে না পারি, তবে এর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর মধ্যে একটি হল স্প্যাম ই-মেইল। এ স্প্যাম ফোল্ডারে নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও উদ্দেশ্যমূলক ই-মেইল আসে, যার মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধীদের দ্বারা অনেকেই আক্রান্ত হয়। সাইবার অপরাধের একটা বড় অংশ হল প্রতারণা। বিশেষ করে নানা সামাজিক যোগাযোগের সাইট যেমন ফেসবুক, টুইটারে ভুল তথ্যকে বিশ্বাস করে প্রতারিত হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়। এছাড়া ইন্টারনেটে নিজের পরিচিতি সংরক্ষণ করা না গেলে, নিজেদের ব্যক্তিগত ই-মেইল, মোবাইল নম্বর প্রাইভেসি অবস্থায় না রাখলে সাইবার ক্রিমিনালরা আপত্তিকর বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে দিতে পারে এবং তথ্যের ভিত্তিতে ই-মেইল বা ফেসবুকের মাধ্যমে হুমকিও প্রদর্শন করতে পারে। যেহেতু এখানে কেউ কাউকে সামনাসামনি দেখতে পায় না তাই একজন আরেকজনকে হুমকি প্রদর্শন সহজ হয়ে যায়। এছাড়া বড় আকারে তা দেশের মানহানিরও কারণ হতে পারে। এটি একটি নতুন ধরনের অপরাধ। এ ব্যাপারে তাই সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজন।
প্রশ্ন : ‘সংযুক্তিই উৎপাদনশীলতা’- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর : তথ্য এবং প্রযুক্তির বিকাশের ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মানুষ সবক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজনেই শিখে এসেছে। মানুষ সবক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজনেই শিখে নিচ্ছে। প্রযুক্তির বিকাশের শুরুরদিকে ধারণা করা হতো স্বয়ংক্রিয়করণ এবং প্রযুক্তির প্রয়োগের ফলে বিশ্বব্যাপী কাজের পরিমাণ কমে যাবে এবং বোকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু বিকাশের এ ধারায় দেখা গেছে কিছু সনাতনী কাজ বিলুপ্ত হয়েছে, বেশ কিছু কাজের ধারায় পরিবর্তন এসেছে। তবে অসংখ্য নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এক গবেষণায় জানা গেছে, প্রতি এক হাজার ইন্টারনেট সংযোগের ফলে নতুন ৮০টি কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে একজন কর্মী অনেক বেশি দক্ষ হয়ে ওঠে। বিপজ্জনক অনেক কাজ শ্রমিকরা যন্ত্র দিয়ে করায় বিভিন্ন কারখানায় নানারকম কাজের জন্য রোবট বা স্বংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এসব যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ মানুষই করে থাকে। এতে সময় বাঁচে। কাজ নিখুঁতভাবে এবং সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। এতে উৎপাদনশীলতা বাড়ে। এর কারণ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সংযুক্তি। তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রয়োগে উৎপাদনশীলতায় এ বৃদ্ধিকে বাঙালি শিক্ষাবিদ এবং বর্তমানে আমেরিকার গওঞ-এর অধ্যাপক ড. ইকবাল কাদির সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে, সংযুক্তিই উৎপাদনশীলতা (Connectivity is productivity) অর্থাৎ প্রযুক্তিতে জনগণের সংযুক্তি বাড়লে তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়ে।
