Logo
Logo
×

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

খেলাপি ঋণের সংকট ও সমাধান

Icon

ফেরদৌস আরা বেগম

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

খেলাপি ঋণের সংকট ও সমাধান

ফাইল ছবি

Advertisement

বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতের অতিমাত্রায় খেলাপি ঋণ এবং এর ফলে পুরো খাতের দুর্দশার চিত্র একটি বিশেষ আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। কারণ বাংলাদেশই একমাত্র উদাহরণ, যেখানে প্রতি ১০০ টাকায় প্রায় ৩৩ টাকা খেলাপি। দক্ষিণ এশিয়া এবং আশিয়ান দেশগুলোয়ও খেলাপি ঋণ রয়েছে, তবে পরিমাণ অনেক কম।

যেমন: ভারতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ২ দশমিক ২ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ, ফিলিপিন্সে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৩ শতাংশ। যেখানে আমাদের স্থানীয় এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানো একটি অন্যতম অগ্রাধিকার, সেখানে বিনিয়োগকারীর ভরসার স্থল ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আস্থা ফিরিয়ে আনা বিশেষভাবে জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালে ইতোমধ্যে ২৫৫ সার্কুলার জারি করেছে, যার মধ্যে ৭টি খেলাপি ঋণসংক্রান্ত। এর মধ্য জাহাজ নির্মাণ, আবাসন, মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা পুনর্গঠন, এক্সিট পলিসি, এডিয়ার-এর জন্য মধ্যস্থতা প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা পুনর্গঠনসংক্রান্ত সার্কুলার অন্যতম।

তবে এগুলোর কোনোটাই খুব বেশি সাড়া পেয়েছে এমনটা বলা যায় না। অর্থাৎ শুধু সার্কুলার জারি করে এতবড় সমস্যার সমাধান বেশ মুশকিল। খেলাপি ঋণের মূল কারণ বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার।

সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল, ঋণ আদায় ব্যবস্থা দুর্বল, ঋণ অনুমোদন সিদ্ধান্ত, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, নিয়ন্ত্রক শিথিলতা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক অভিঘাত, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের সমন্বয়, COVID-19-এর সময় ব্যাংক খাতে বর্ধিত ঋণ শ্রেণিকরণ সময়সীমা, কিস্তি পরিশোধে স্থগিতাদেশ এবং অন্য সুবিধার মাধ্যমে ব্যতিক্রমী নিয়ন্ত্রক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, কিছু উদ্যোক্তা এগুলো ব্যবহার করেছে যা ক্ষেত্রবিশেষে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।

বেশ কিছু ঋণগ্রহীতা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও সঙ্গে সঙ্গে তাদের ঋণ শ্রেণিকৃত হয়নি, কারণ সাময়িকভাবে কার্যকর থাকা নিয়ন্ত্রক কাঠামো তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থাকে ব্যাংকের হিসাবপত্রে প্রতিফলিত হতে দেয়নি। এসব সুবিধা প্রত্যাহার এবং ঋণ শ্রেণিকরণ বাস্তবসম্মত পর্যায়ে ফিরে এলে আগে সঞ্চিত বিপুল পরিমাণ আর্থিক চাপ প্রকাশ পেতে শুরু করে। ঋণগ্রহীতাদের প্রতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল, যে কারণে কিছু ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি নয় এমন উদ্যোক্তাও খেলাপি হয়েছে।

বর্তমান এনপিএলের পরিমাণ, ধরন এবং কারণ সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করে এর মধ্যে রয়েছে প্রকৃত ব্যবসায়িক ব্যর্থতা, সাময়িক তারল্য সংকট, আগে স্থগিত বা আড়ালে থাকা আর্থিক অবনতি, সামষ্টিক অর্থনৈতিক অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা, দুর্বলভাবে পরিচালিত কোম্পানি এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি চিহ্নিত করা দরকার। যেহেতু কারণগুলো ভিন্ন, তাই সব শ্রেণির ঋণগ্রহীতার জন্য একই ধরনের সমাধান কার্যকর হবে না।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি সাময়িক অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত কিন্তু মৌলিকভাবে সক্ষম ব্যবসাকে এমন ব্যবসা থেকে আলাদা করা, যে ব্যবসা স্থায়ীভাবে অর্থনৈতিক সক্ষমতা হারিয়েছে; একই সঙ্গে এমন ঋণগ্রহীতাকেও আলাদা করে শনাক্ত করা প্রয়োজন। যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ এড়িয়ে গেছেন অথবা ব্যাংকের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। এগুলো খুবই দুরূহ কাজ, কিন্তু যেহেতু ব্যাংকগুলো তাদের ক্লায়েন্টদের খুব ভালোভাবে জানে, তাই তাদের রাজনীতিক এবং অর্থনৈতিক সমর্থন দিলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের সমন্বয় উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং এনপিএল বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। একটি কোম্পানি তুলনামূলকভাবে কম বিনিময় হার ধরে তার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, আমদানি ব্যয়, চলতি মূলধনের প্রয়োজন এবং ঋণ পরিশোধের হিসাব তৈরি করার পর যখন টাকার মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, আমদানি করা কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, মধ্যবর্তী পণ্য এবং বৈদেশিক মুদ্রায় নেওয়া দায়ের টাকার অঙ্কের খরচ দ্রুত বেড়ে যায়।

যে ব্যবসা তার মূল বিনিময় হার-ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী লাভজনক ছিল, সেটিই হঠাৎ করে গুরুতর আর্থিক চাপে পড়ে যায় বা এ ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতি ডলারের বিপরীতে ৮৪ টাকা বিনিময় হার ধরে যে ব্যবস্যা শুরু, পরবর্তীকালে বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে তা অতিরিক্ত দায় পরিশোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ খাত আরেকটি উদাহরণ, যেখানে ব্যাংকের লাভজনকতা এবং তারল্যকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। একটি কোম্পানির বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর চুক্তি এবং লাভজনক মূল ব্যবসা থাকতে পারে; কিন্তু সরকার দীর্ঘ সময় ধরে পাওনা পরিশোধ না করলে কোম্পানিটি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হতে পারে। কোনো কোম্পানি যদি সাধারণত দুই বা তিন মাসের মধ্যে পাওনা পাওয়ার আশা করে, কিন্তু সেই পাওনা আট বা নয় মাস ধরে অনাদায়ি থাকে, তাহলে মূল ব্যবসা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও তার ব্যাংক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে যেতে পারে। এছাড়া ঋণ বিতরণে ঐতিহাসিকভাবে তৈরি পোশাক, সিমেন্ট, বিদ্যুৎ, নির্মাণ এবং এ ধরনের খাতে ঋণের পরিমাণ বা ঘনত্ব ব্যাংকগুলোর পোর্টফোলিও রিস্ক সৃষ্টি করেছে। কোনো ঋণগ্রহীতাকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করলে সে গ্রহণযোগ্য মনে হতে পারে; কিন্তু পুরো খাতটি যদি কমে যাওয়া চাহিদা, বাড়তে থাকা কাঁচামালের খরচ, বিলম্বিত পাওনা এবং উচ্চতর সুদ ব্যয়ের সম্মুখীন হয়, তাহলে ঝুঁকি সিস্টেমিক পর্যায়ে চলে যেতে পারে। তাই ব্যাংক খাতকে শুধু ঋণগ্রহীতাভিত্তিক মূল্যায়নের বাইরে গিয়ে ঋণের ক্ষেত্রে বহুমুখীকরণ, স্ট্রেস-টেস্টিং এবং ম্যাক্রো ইকোনমিক সেন্সিটিভিটির ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ফিক্সড হারে সুদহার কাঠামো বিদ্যমান ছিল, ঋণের সুদহার কৃত্রিমভাবে সীমাবদ্ধ ছিল। একটি টেকসই ব্যাংকিং ব্যবস্থা এমন সুদের হার কাঠামো চায়, যা মোটামুটি আমানতের খরচ, মূল্য্যস্ফীতি, তারল্য, ঋণঝুঁকি, মূলধন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা এবং ঋণগ্রহীতাভিত্তিক ঝুঁকিকে প্রতিফলিত করে। কিন্তু যদি এমন অবস্থা হয়, যার ফলে আমানতের খরচ ও ঝুঁকি বাড়তে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের ঋণ ক্ষতি মোকাবিলার জন্য ব্যাংকগুলো পর্যাপ্ত রিস্ক-অ্যাডজাস্টমেন্ট রিটার্ন অর্জন করতে নাও পারে। একইসঙ্গে আকস্মিক সমন্বয় উচ্চ ঋণনির্ভর কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অবস্থা বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে যার ফলে কোম্পানি এবং ব্যাংক দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি নিয়ন্ত্রিত এবং ক্রমবর্ধমানভাবে বাজারভিত্তিক সুদ কাঠামো অনেক আগে থেকেই দরকার ছিল, যেখানে সুদের হার এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার উভয়ই অধিকতর পূর্বানুমানযোগ্য হবে এবং ব্যাংকগুলো প্রকৃত ঝুঁকির ভিত্তিতে ঋণের মূল্য নির্ধারণ করতে পারবে।

খেলাপি ঋণের সমস্যা মোকাবিলায় বিগত ২৯ জুন একটি এক্সিট পলিসি পেশ করা হয়েছে, এর মাধ্যমে পুরোনো খেলাপি ঋণকে নগদ আদায়ে রূপান্তর, ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট শক্তিশালী এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি সম্ভব হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে ঋণগ্রহীতাদের যথাযথভাবে পৃথক্করণ এবং সেটেলমেন্ট টার্মস তৈরির দক্ষতার ওপর। এককালীন সেটেলমেন্টের বাধ্যবাধকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো ব্যবসা যদি সুদের দায় পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত ক্যাশ ফ্লো তৈরি করতে না পারার কারণে শ্রেণিকৃত হয়ে থাকে, তাহলে একই ঋণগ্রহীতা তাৎক্ষণিকভাবে পুরো বকেয়া অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। তাই সাময়িক তারল্য সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার অভিঘাত, দুর্বল চাহিদা বা বিলম্বিত পাওনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কিন্তু কার্যকর ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রমাণিত ভবিষ্যৎ, ক্যাশ ফ্লো, কো-লেটারেল এবং উদ্যোক্তার অর্থপূর্ণ নিজস্ব অবদান বিবেচনা করে স্ট্রাকচারড রি-পেমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে; অবিলম্বে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের শর্ত সব ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত নাও হতে পারে।

একইভাবে সঞ্চিত সুদের ব্যবস্থাপনাও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বারবার পুনর্গঠিত ঋণের ক্ষেত্রে কোনো কোনো ঘটনায় ঋণগ্রহীতা ঋণের পুরো মেয়াদে ইতোমধ্যে যে সুদ পরিশোধ করেছে, তা মূল ঋণের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সঞ্চিত সুদের বড় অংশ মওকুফ করলে ব্যাংকের জন্য অতিরিক্ত আদায়ের সুযোগ হ্রাস পাবে, একইসঙ্গে এ ব্যবস্থায় যেসব ঋণগ্রহীতার রিপেমেন্ট প্রদান ইতোমধ্যে সমস্যাজনক ছিল, তারা বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে। তাই শুধু এনপিএলের হিসাবি আকার হ্রাস একমাত্র উদ্দেশ্য না হয়ে রিকভারি কীভাবে ক্রমান্বয়ে বাড়ানো যায়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া দরকার।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হলো, যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেছে, তাদের তুলনায় যারা ঋণ পরিশোধ বন্ধ করেছে এবং পরবর্তীকালে বড় ধরনের ছাড় পেয়েছে, তাদের যদি তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনকভাবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে রিপেমেন্ট ডিসিপ্লিন দুর্বল হবে। এর ফলে কিছু সক্ষম ও দায়িত্বশীল ঋণগ্রহীতাও ভবিষ্যতে পুনর্গঠন এবং সুদ মওকুফের আশায় ঋণ পরিশোধ বিলম্বিত করতে উৎসাহিত হতে পারে। এ ধরনের ফলাফল ক্রেডিট ডিসিপ্লিন দুর্বল করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন খেলাপি সৃষ্টি করতে পারে। তাই যে কোনো অব্যাহতি দেওয়ার আগে অনেক বিষয় চিন্তা করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প আবার চালুর কর্মসূচির ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। কার্যকর কারখানা আবার চালু করা কর্মসংস্থান, সরবরাহ চেইন, উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু পুরোনো খেলাপি ঋণের মূল ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধান না করে শুধু পুনঃঅর্থায়ন করলে সমস্যাটি ভবিষ্যতে স্থানান্তরিত হতে পারে। নতুন অর্থায়নের আগে ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে যে কারখানাটি তার বিদ্যমান দায় এবং প্রস্তাবিত নতুন অর্থায়ন উভয়ের সেবা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত টেকসই ক্যাশ ফ্লো তৈরি করতে পারবে কি না। এক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব বিশ্লেষণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন অর্থায়নের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবার চালু করা; বিদ্যমান খেলাপি ঋণকে আড়াল করা নয়।

আইনি রিকভারি ফ্রেমওয়ার্কও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সার্কুলার দেওয়ার মাধ্যমে এতবড় সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন দ্রুততর ও কার্যকর ফিন্যান্সিয়াল ডিস্পুট রেজ্যুলেশন ব্যবস্থা, একইসঙ্গে আইনে ব্যবসায়িক ব্যর্থতা এবং আর্থিক অনিয়মের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ। যে ঋণগ্রহীতা সত্যিকার অর্থে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হারিয়েছে, তাকে এমন ঋণগ্রহীতা থেকে আলাদাভাবে বিবেচনায় আনা এবং যার উল্লেখযোগ্য সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ করছে না অথবা রিকভারি এড়ানোর জন্য সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে, এ পার্থক্য নির্ধারণ এবং সেমত ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি পেশাদারভাবে পরিচালিত Asset Management Company (AMC) পুরোনো NPL stock মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞজ্ঞান প্রয়োজন। ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ পরবর্তীকালে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে ক্লাসিফাইড লোনের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন অর্থও পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় আইনি জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা সিলেক্টিভ কেস পরিচালনা প্রতিরোধ করতে হবে।

দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগকে পুনর্বাসিত করা এবং চলমান পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা জরুরি, কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্যাপক কর্মসংস্থান। সরকারের কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। লক্ষ্য হওয়া উচিত সুস্থ ব্যাংক, কার্যকর ব্যবসা, শৃঙ্খলাবদ্ধ ঋণগ্রহীতা, কার্যকর রিকভারি মেকানিজম এবং টেকসই নতুন ঋণপ্রবাহ। বাংলাদেশ যদি বারবার মেয়াদ বাড়ানো এবং ঋণের অবনতি বিলম্বে স্বীকার করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা শনাক্তকরণ, ঋণগ্রহীতাভেদে পুনর্গঠন, প্রকৃত রিকভারি এবং শক্তিশালী এনফোরসমেন্টের দিকে অগ্রসর হতে পারে, তাহলে বর্তমান এনপিএল সংকট এড়ানো এবং ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে তা একটি সুযোগে পরিণত করা সম্ভব।

ফেরদৌস আরা বেগম : অর্থনীতিবিদ; নির্বাহী পরিচালক, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)

অনুলিখন : এম এ খালেক

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

খেলাপি ঋণ ৯ মাসে কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ

খেলাপি ঋণ ৯ মাসে কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ

মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

খেলাপি ঋণ আদায়ে নীতিমালা জারি মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

খেলাপি ঋণ আদায়ে নীতিমালা জারি মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

ক্রমবাড়ন্ত খেলাপি ঋণ

ক্রমবাড়ন্ত খেলাপি ঋণ

খেলাপি ঋণ আদায়ে ফের বড় ছাড়

ফাইন্যান্স কোম্পানির তারল্য বাড়ানো খেলাপি ঋণ আদায়ে ফের বড় ছাড়

ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে

আরও পড়ুন

খেলাপি ঋণের সংকট ও সমাধান

খেলাপি ঋণের সংকট ও সমাধান

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বার্তা : এখন কূটনৈতিক বাস্তবায়নের পালা

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বার্তা : এখন কূটনৈতিক বাস্তবায়নের পালা

চাকরির আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো কতটা জরুরি

চাকরির আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো কতটা জরুরি

সরকারের শক্তি বক্তব্যে নয়, সুশাসনে হতে হবে

সরকারের শক্তি বক্তব্যে নয়, সুশাসনে হতে হবে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম