ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিলের পাঁয়তারা করছে ট্রাম্প প্রশাসন
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১০ পিএম
মার্কিন আইনপ্রণেতা ইলহান ওমর। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডেমোক্র্যাট পার্টির আইনপ্রণেতা ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল এবং তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তদন্ত করছে।
আল জাজিরা বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তা এবং তদন্তের বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর মিনেসোটার এই প্রতিনিধি কীভাবে নাগরিকত্ব পেলেন, তা এই তদন্তের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। কর্তৃপক্ষ তার পরিবারের অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখছে এবং মিনেসোটায় গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তার কয়েকজন আত্মীয়সহ বেশ কয়েকজনের নামে সমন জারি করেছে।
‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে’ দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ইলহান ওমরের কার্যালয় এই তদন্তকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই আইনপ্রণেতার বাড়িতে মার্কিন ফেডারেল এজেন্টদের অভিযানের কয়েক দিনের মধ্যেই ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এই প্রতিবেদনটি সামনে এলো। ওমরের কার্যালয় একে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একটি ‘নজিরবিহীন পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এই তল্লাশি চালানো হলো। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকা রিপাবলিকানদের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইলহান ওমর মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, এই অভিযানটি একটি ‘চলমান ফেডারেল তদন্তের’ অংশ।
পত্রিকাটির তথ্য অনুযায়ী, তল্লাশির সময় এজেন্টরা ওমরের পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, ব্যক্তিগত কম্পিউটার এবং নোটবুক নিয়ে গেছেন।
ইলহান ওমর কেনিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে থাকার পর ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে নাগরিকত্ব লাভ করেন। তিনি এর আগেও অভিবাসন সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত এই তদন্তের মূল বিষয় হলো—ওমর নিজে অথবা তার প্রয়াত বাবা অভিবাসন নথিপত্রে তার বয়স পরিবর্তন করেছিলেন কি না। অভিযোগ অনুযায়ী, তার বাবা যখন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন, তখন ওমরের বয়স ১৮ হওয়ার কথা থাকলেও নথিতে তা ১৭ দেখানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পত্রিকাটি আরও জানায়, তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন যে, বয়সের এই পরিবর্তনের ফলে তিনি আলাদা কোনো আবেদন প্রক্রিয়া ছাড়াই বাবার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন কি না।
ইলহান ওমরের বাবা ২০২০ সালে মারা গেছেন। এর ফলে ওমর নিজের বয়স নিয়ে মিথ্যা বলেছিলেন কি না অথবা তার বাবা তার হয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়টি জটিল হয়ে পড়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’-এর কর্মকর্তারা একই ধরনের একটি অভিযোগ খতিয়ে দেখেছিলেন, কিন্তু প্রতারণার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তারা আর এগোয়নি।
সংবাদপত্রটি এমন কোনো তথ্য দেয়নি যে, ওমরের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য কেউ আদালতে মামলা করেছে। এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতো, কারণ কেবল তদন্তের মাধ্যমে কারো নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না বা তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া যায় না।
সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, কংগ্রেসের একটি নিরপেক্ষ তদারকি সংস্থা এর আগে ওমরের সম্পদের বিবরণীতে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ থেকে তাকে দায়মুক্ত করেছিল।
ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) অন্তর্ভুক্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) এজেন্টরা ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। বিভাগটির ভাষ্য, এই তল্লাশিটি ছিল ‘আদালত অনুমোদিত তল্লাশি’।
সোমবার সকালে এজেন্টরা ওমরের বাড়ির চারপাশের রাস্তা অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং ‘জব্দকৃত আলামত’ লেখা কিছু বাক্স সেখান থেকে নিয়ে যায়।
সোমালি বংশোদ্ভূত এবং অভিবাসী পটভূমির কারণে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা ওমর দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাম্প ও তার মিত্রদের আক্রমণের শিকার হয়ে আসছেন।
সোমবারের এই অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এই তল্লাশির সঙ্গে তার ‘কোনো সম্পর্ক নেই’ এবং এটি ‘সম্পূর্ণরূপে বিচার বিভাগের বিষয়’।


