Logo
Logo
×
   

Advertisement

চিত্র বিচিত্র

চায়ে কেন দুধ মেশাল ব্রিটিশরা? জানুন অদ্ভুত সেই কারণ

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫১ পিএম

চায়ে কেন দুধ মেশাল ব্রিটিশরা? জানুন অদ্ভুত সেই কারণ

জানুন দুধ চায়ের রোমাঞ্চকর ইতিহাস। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

সকালে এক কাপ গরম ধোঁয়া ওঠা চা ছাড়া বাঙালির দিনটা যেন জমেই না। আর আমাদের কাছে চা মানেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘন দুধ আর চিনিতে ভরা লিকলিকে ‘দুধ চা’। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, চায়ে দুধ ঢালল কে? কবে থেকে শুরু হলো এই রীতি? চায়ের ইতিহাসে দুধের এই অনুপ্রবেশ কি স্রেফ স্বাদের জন্য, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য?

মজার বিষয় হলো, চায়ে দুধ মেশানোর এই বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় অভ্যাসের মূলে ছিল দামী চীনামাটির কাপ বাঁচানোর এক কৌশল এবং ব্রিটিশদের একটি সুনিপুণ বাণিজ্যিক ফন্দি।

চায়ের আদি নিবাস ও লিকার চা যুগের ইতিবৃত্ত

চায়ের আদি নিবাস চীন। সেখানে হাজার বছর ধরে চা পান করা হতো একদম সাদামাটাভাবে—গরম পানিতে ভেজানো সতেজ পাতা। এটি ছিল মূলত একটি ঔষধি পানীয়। পরে জাপান ও চীনে চা হয়ে ওঠে এক মার্জিত আভিজাত্যের প্রতীক। যেখানে চিনি বা দুধ মেশানোর কথা কেউ কল্পনাও করত না। অর্থাৎ চায়ের দীর্ঘ ইতিহাসে ‘চা’ ছিল কেবল পাতা আর গরম পানির এক নির্মল রসায়ন।

মঞ্চে দুধের প্রবেশ: চীনামাটির কাপ বাঁচানোর লড়াই!

১৭শ শতকে চা ইউরোপে পৌঁছালে এটি দ্রুত ব্রিটিশ আভিজাত্যের অংশ হয়ে ওঠে। ১৮শ শতকের দিকে ব্রিটিশরা উন্নতমানের ‘বোন চায়না’ (Bone China) বা চীনামাটির পাত্রে চা পান শুরু করে। কিন্তু তৎকালীন সাধারণ মানের কাপগুলো ফুটন্ত গরম চায়ের তাপ সহ্য করতে পারত না, প্রায়ই ফেটে যেত।

এই সমস্যা সমাধানে তারা বুদ্ধি করে কাপে আগে কিছুটা ঠাণ্ডা দুধ ঢেলে নিত, তার ওপর ঢালত গরম চা। এতে চায়ের তাপমাত্রা কমে কাপটি নিরাপদ থাকত। এছাড়া চায়ের কড়া তিক্ততা কমানোও ছিল এর একটি বাড়তি সুবিধা। ধনী পরিবারগুলো বেশি চা ও সামান্য দুধ খেত, আর নিম্নবিত্তরা চায়ের খরচ বাঁচাতে কাপের বড় অংশ দুধে পূর্ণ করে সামান্য লিকার মেশাত।

ভারতীয় উপমহাদেশে ‘চা-খোর’ তৈরির ব্রিটিশ নীল নকশা

১৯শ শতকে ব্রিটিশরা চায়ের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ভারতীয় উপমহাদেশে চা চাষ শুরু করে। আসাম, দার্জিলিং ও সিলেটে গড়ে ওঠে বিশাল বিশাল চা বাগান। তবে শুরুতে এই চা ছিল মূলত বিলেতে রপ্তানির পণ্য; ভারতীয়রা তখনো চা পানে অভ্যস্ত ছিল না।

২০শ শতকের শুরুতে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা ভারতের বিশাল বাজার ধরার জন্য এক কৌশলী পরিকল্পনা করেন। তারা দেখলেন ভারতীয়রা দুধ ও মিষ্টিতে খুব অভ্যস্ত। তাই তারা রেলস্টেশন, কল-কারখানা এবং রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিনামূল্যে বা সস্তায় ‘ব্রিটিশ কায়দায়’ দুধ-চিনি মেশানো চা বানানো শেখাতে শুরু করেন। এই বিপণন কৌশল এতটাই সফল হয় যে, খুব অল্প সময়েই উপমহাদেশীয় মানুষের কাছে চা একটি নেশায় পরিণত হয়।

উপমহাদেশীয় ছোঁয়ায় ‘মশলা চা’

ব্রিটিশরা শিখিয়েছিল ‘দুধে চা’ দিতে, কিন্তু ভারতীয়রা সেই ফর্মুলাকে বদলে দিয়ে বানালো ‘চায়ে দুধ’। এর সাথে আদা, এলাচ ও বিভিন্ন মশলা যোগ করে চা-কে এক নতুন রূপ দেওয়া হলো। এভাবেই চীনের ঔষধি পানীয় ব্রিটেনের ড্রয়িংরুম হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাস্তার ধারের ‘মাটির ভাঁড়ের চা’ বা ‘টংয়ের দোকানে’ পৌঁছে গেল।

চায়ের এই দীর্ঘ ভ্রমণকাহিনি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এক কাপ দুধ-চায়ের ভেতরে শুধু চা-পাতা আর পানি নেই; এতে মিশে আছে সাম্রাজ্যবাদ, বাজার অর্থনীতি এবং কয়েকশ বছরের বিবর্তিত এক স্বাদবোধ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম