বিশ্বের প্রবীণতম হওয়ার দৌড়ে ১১৯ বছরের হোসে ফ্লোরেস
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কোস্টারিকার সারদিনাল শহরের একটি সাধারণ কাঠের বাড়িতে নাতনির সঙ্গে শান্ত জীবন কাটাচ্ছেন হোসে ফ্লোরেস। পরিবারের সদস্য ও সরকারি নথি অনুযায়ী তার বয়স এখন ১১৯ বছর।
জন্মতারিখ আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই হয়ে গেলে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত স্বীকৃতির আগে ঐতিহাসিক নথিপত্র যাচাই-বাছাই করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
কোস্টারিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল থেকে গাড়িতে প্রায় ২০ মিনিটের দূরত্বে সারদিনালের অবস্থান। শহরটি নিকোয়া উপদ্বীপে অবস্থিত। নিকোয়া বিশ্বের পাঁচটি ‘ব্লু জোন’-এর একটি—যেসব অঞ্চলে মানুষের তুলনামূলক দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের প্রবণতা রয়েছে এবং শতায়ু হওয়ার হারও বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘায়ুর পেছনে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ পানি, ভুট্টা ও শিমভিত্তিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত কায়িক শ্রম এবং পরিবার ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে দৃঢ় সামাজিক বন্ধন।
বর্তমানে দিনের বেশির ভাগ সময় ঘুমিয়ে, পরিবারের তৈরি খাবার খেয়ে এবং নাতনির সঙ্গে হাত মেলানোর খেলায় সময় কাটে হোসের।
তার দেখভালের দায়িত্বে থাকা নাতনি হেলেন ফ্লোরেস জানান, সারা জীবন গ্রামাঞ্চলে পরিশ্রম করে কাটানো তার দাদা এখন শান্তি ও আনন্দেই দিন কাটাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে তিনি অতীত জীবনের গল্প বলেন, রসিকতা করেন এবং দীর্ঘ জীবনের অন্যতম রহস্য হিসেবে পরিবারের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেন।
হেলেন বলেন, ভালোবাসা, স্নেহ ও যত্ন ছাড়া তার দাদা এতদিন বেঁচে থাকতেন না।
নিকোয়া ব্লু জোন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা হোর্হে ভিনদাসের মতে, দীর্ঘায়ুর পেছনে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন, আধ্যাত্মিকতা, ধর্মীয় বিশ্বাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তুলনামূলক শান্ত ও কম চাপের জীবনযাপনও এর একটি কারণ।
হোসের পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তিনি ১৯০৭ সালের ১১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মসনদ, বাপ্তিস্মের সনদ এবং পরবর্তী জীবনের বিভিন্ন নথিও রয়েছে। এসব তথ্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্বীকৃতি পেলে বিষয়টি পরিবার ও পুরো দেশের জন্য গর্বের হবে বলে মনে করেন হেলেন। হোসের আট সন্তান, ২৩ নাতি-নাতনি, ২৫ প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী এবং একজন প্রপৌত্রী রয়েছেন।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত ব্যক্তি হিসেবে ব্রিটিশ নাগরিক এথেল ক্যাথারিনের নাম স্বীকৃত। ১৯০৯ সালের ২১ আগস্ট ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারে জন্ম নেওয়া এথেল ২০২৬ সালে ১১৭ বছরে পা দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

