দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি নাকি রাজনীতির প্রদর্শনী?
Advertisement
আসাদ পারভেজ
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ধর্ম যার যার, উৎসব তার তার এবং রাষ্ট্র সবার। এ স্লোগানে আম-জনতা থেকে সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিশ্বাসী। ৯১ শতাংশ মুসলমানের এ-দেশে সম্প্রীতি বজায় থাকাটা সৌভাগ্যের। তবুও ধর্মীয় সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার নামে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ও আচরণ কতটা দায়িত্বশীল হওয়া উচিত, সেই প্রশ্ন সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। পূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি দেশের সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা, সাংস্কৃতিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রেরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতে সাংবিধানিক দায়িত্ব। হিন্দুরা নির্বিঘ্নে দূর্গাপূজা, মুসলমানেরা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন—এটাই স্বাভাবিক বাংলাদেশ; যদিও হিন্দুপ্রধান ভারতের সবকয়টি অঞ্চলে এ উৎসব হয়-না। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে পূজা উৎসবের মিছিল থেকে মসজিদ ভাঙা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিল্লির বাসভবন সংলগ্ন ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ ও পাশের কবরস্থান ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা সাম্য ও সম্প্রতি চাই, তবে রাজনীতির প্রদর্শনী নয়।
এবারের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতাদের কিছু বক্তব্য এবং উৎসবে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জামায়াত ও বিএনপির এমপিসহ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে সমালোচনা দেখা গেছে। তাদের প্রত্যেকের বক্তব্যের প্রকৃত ভাষ্য, প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে বৃহত্তর প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই; ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিতে গিয়ে রাজনীতিবিদেরা কি কখনো এমন ভাষা ব্যবহার করছেন— যা এক ধর্মের মানুষের কাছে আনন্দদায়ক হলেও অন্য ধর্মের মানুষের বিশ্বাসে অস্বস্তি তৈরি করে? বিশেষ করে দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে বলতে শোনা যায়, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। একই বক্তব্য কিন্তু রোজা ও কোরবানীর ঈদে শোনা যায় না বলে অনেকেই এসকল সুশীলদের তিরস্কার করেন। তবে, বক্তব্যটির ইতিবাচক সামাজিক তাৎপর্য; ধর্ম যার যার অর্থ প্রত্যেকের ধর্মীয় বিশ্বাস, উপাসনা ও ধর্মীয় পরিচয়ের স্বাতন্ত্র এবং উৎসব সবার অর্থ হতে পারে, নাগরিকেরা পরস্পরের আনন্দে শামিল, নিরাপত্তা-শুভেচ্ছা বিনিময় এবং প্রতিবেশীর ধর্মীয় অধিকারকে সম্মান। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, প্রত্যেক নাগরিককে অন্য ধর্মের ধর্মীয় বিশ্বাসকে নিজের বিশ্বাস হিসেবে গ্রহণ করতে হবে কিংবা রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার জন্য নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বক্তব্য দিতে হবে।
বাংলাদেশের মুসলমানদের কাছে ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রশ্নটি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়। ফলে কোনো মুসলিম রাজনৈতিক নেতা যখন অন্য ধর্মের দেবদেবী সম্পর্কে অতি-আবেগতাড়িত মন্তব্য করেন, যা তার নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হতে পারে, তখন তার অনুসারীদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। ইসলামি বিশ্বাসের আলোকে আল্লাহর একত্ববাদ একটি মৌলিক আকিদা। পবিত্র কোরআনের সুরা ইখলাসে আল্লাহর একত্ব স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস, উপাসনা ও আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে। একটি বহুধর্মীয় সমাজে এই দুই বাস্তবতাকে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর প্রয়োজন নেই। বরং গ্রহণযোগ্য স্বাধীনতাকে সম্মান করেই সহাবস্থান গড়ে তুলতে হবে।
হিন্দু প্রতিবেশীর নিরাপত্তা নিশ্চিত-বিপদে পাশে দাঁড়ানো, পূজামণ্ডপ পাহারা কিংবা শুভেচ্ছা জানানো—এসবের সঙ্গে মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাস বিসর্জন দেওয়ার কোনো অনিবার্য সম্পর্ক নেই। সবচাইতে বড় কথা হলো দেশের পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বশীল কাজ কেন অহেতুক দলীয় কর্মীরা করবে এবং পূজা মণ্ডপে ভিড় জমাবে। সমস্যা তখনই, যখন নাগরিক সম্প্রীতির স্বাভাবিক আচরণকে রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রদর্শনীতে পরিণত হয়।
বাংলাদেশে ভোটের রাজনীতিতে ধর্ম দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কোনো দল ধর্মীয় পরিচয়কে, কোনো দল ধর্মনিরপেক্ষতার ভাষায়, আবার কেউ সব ধর্মের মানুষের সমর্থন অর্জনের নেশায় ধর্মীয় উৎসবগুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। সমস্যা ধর্মীয় উৎসবে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি নয়। জনপ্রতিনিধিরা তার এলাকার নাগরিকদের প্রতিনিধি। হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকায় পূজায় তার উপস্থিতি, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ এবং মানুষের খোঁজখবর নেওয়া দায়িত্বশীল রাজনীতিরই অংশ। কিন্তু উপস্থিতি আর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণ এক বিষয় নয়; শুভেচ্ছা জানানো আর অন্য ধর্মের বিশ্বাসকে নিজের বিশ্বাসের ভাষায় ব্যাখ্যা করাও এক নয়।
কোনো নেতা যদি সত্যিই সম্প্রীতি চান, তার কাজ সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা-সম্পত্তি ও উপাসনালয়ের সুরক্ষা দেওয়া এবং বৈষম্য বা হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্য যখন অতিরঞ্জিত হয়ে পড়ে, তখন তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেউ ভাবেন, নেতা হয়তো ভোটের হিসাব করছেন; কিংবা তিনি বিশেষ রাজনৈতিক শক্তি বা ভারতকে সন্তুষ্ট করতে চাইছেন; আবার কেউ তার বক্তব্যকে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি উদাসীনতা হিসেবে দেখেন। রাজনীতিবিদদের মনে রাখতে হবে, জনপ্রিয়তার জন্য বলা একটি বাক্যও তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, রাজনৈতিক দর্শন ও জনদায়বদ্ধতা নিয়ে বড় বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
পূজায় মন্দিরে জামায়াতের নেতাদের উপস্থিতির কারণে নিন্দা করার যৌক্তিকতা নেই। বরং রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যালঘু নাগরিকদের কাছে পৌঁছাবে, তাদের সমস্যা শুনবে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেবে—এটাই প্রত্যাশিত। প্রশ্ন হলো, তারা পূজার আগে এক কথা আর পূজার সময় আরেক কথা বলছেন কি-না। একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত অবস্থান বিচার করতে হলে শুধু উৎসবের দিনের ছবি যথেষ্ট নয়। দেখতে হবে, তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যে সব ধর্মের নাগরিকের সমান অধিকার কতটা স্বীকৃত; সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হলে তারা কী ভূমিকা নেয়; রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক সমতার নিশ্চয়তা কীভাবে দেয়।
দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে নাট্যজগতের পরিচিত ব্যক্তি শাওনসহ বিভিন্ন মানুষের অংশগ্রহণ এবং কারও নাচ বা প্রসাদ গ্রহণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। প্রসাদ গ্রহণ নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় মতভেদ ও সংবেদনশীলতা রয়েছে। কোনো ব্যক্তি তার ধর্মীয় জ্ঞান, বিবেক ও অনুসৃত মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের আচরণ নিয়ে যুক্তিসংগত ধর্মীয় আলোচনা করার অধিকারও মানুষের রয়েছে। একজন রাজনৈতিক নেতা যখন প্রকাশ্যে অংশ নেন, তখন তার আচরণকে ব্যক্তিগত পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও জনগণ দেখেন। তাই তাদের কাছ থেকে বাড়তি সংবেদনশীলতা প্রত্যাশা করা অযৌক্তিক নয়। তবে এই সংবেদনশীলতার অর্থ এমন কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি করা নয়, যাতে মুসলমানেরা কখনো মন্দিরে যেতে পারবেন না, হিন্দুরা কখনো মসজিদে যেতে পারবেন না কিংবা দুই সম্প্রদায়ের মানুষ পরস্পরের সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। উপাসনা, ধর্মীয় আচার এবং সামাজিক সৌজন্য এক বিষয় নয়। এগুলোর পার্থক্য বুঝতে হবে।
অনেকের প্রশ্ন— হিন্দুরা রোজা রাখেন না, কোরবানিতে অংশ নেন না কিংবা ঈদুল আজহার সময় গরুর মাংস খান না? একই সাথে ভারতে তারা কোরবানি-তে বাঁধা সৃষ্টি করেন; তাহলে মুসলমানদের কেন দুর্গাপূজায় গিয়ে অংশ নিতে হবে এবং প্রসাদ খেতে হবে? তবে কোনো সম্প্রদায়ের খাদ্যাভ্যাসকে অন্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রকৃত সম্প্রীতি মানে সবাই একই কাজ করবেন, একই খাবার খাবেন কিংবা একই ধর্মীয় আচার পালন করবেন—এমন নয়। সম্প্রীতি হলো, মত ও বিশ্বাসের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কেউ কারও অধিকার হরণ করবেন না, কাউকে অপমান করবেন না এবং কাউকে নিজের বিশ্বাস পরিবর্তনে বাধ্য করবেন না।
এদেশে ৯১শতাংশ জনগণ মুসলমান— এই সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিকে অবজ্ঞা করে রাজনীতি করা যেমন বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তেমনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তিতে সংখ্যালঘু নাগরিকের অধিকার সীমিত করার চিন্তাও গ্রহণযোগ্য নয়। তবে গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নাগরিক অধিকারের ভিত্তি শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছা নয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ২৮ অনুচ্ছেদে ধর্মসহ বিভিন্ন কারণে বৈষম্য নিষিদ্ধকরণ এবং ৪১ অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা রয়েছে। এসব বিধান সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু—উভয় নাগরিকের মর্যাদা রক্ষার ভিত্তি। অতএব, কোনো মুসলমান রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগলে তার বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের কাজ হবে—একদিকে মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানো, অন্যদিকে হিন্দুসহ অন্যান্য নাগরিকদের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের অধিকার নিশ্চিত করা। ধর্মীয় উৎসবকে কেবল আলোকচিত্র, মঞ্চের বক্তব্য, নাচ কিংবা সামাজিক প্রচারের উপলক্ষ বানানো না হয়। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত বক্তব্যের আগে নিজেদের ভাষা ও ধর্মীয় অবস্থান সম্পর্কে সচেতন থাকা। যদি বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, তাহলে তার উচিত এই বক্তব্যের নাগরিক অর্থ পরিষ্কার করা—সবাই পরস্পরের আনন্দে অংশ নেবেন, কিন্তু কাউকে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস বিসর্জন দিতে হবে না। কেউ যদি পূজামণ্ডপে যান, তা নাগরিক সংহতি; ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই।
ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে মানুষকে বিভক্ত—দুটিই দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। যে রাজনীতি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিকে অবজ্ঞা করে, সেটি যেমন দায়িত্বশীল নয়; যে রাজনীতি হিন্দু নাগরিককে দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ হিসেবে দেখতে শেখায়, সেটিও তেমনি বাংলাদেশের সাংবিধানিক চেতনার পরিপন্থী। আমাদের প্রয়োজন এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে একজন মুসলমান তার বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে হিন্দু প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়াতে পারবেন, একজন হিন্দু তার ধর্মীয় পরিচয় অক্ষুণ্ন রেখে মুসলমান প্রতিবেশীর বিপদে সহযোগিতা করতে পারবেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলই তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে ভোটের হিসাবের মধ্যে বন্দী করতে পারবে না। ঈদ ও পূজা স্বাতন্ত্র থাকবে, প্রত্যেকের বিশ্বাসের মর্যাদা থাকবে। সেই স্বাতন্ত্র অস্বীকার করে কৃত্রিম একাত্মতা তৈরি করার প্রয়োজন নেই; আবার পার্থক্যকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষের দেয়াল তোলারও প্রয়োজন নেই। ধর্মীয় সম্প্রীতি মানে সবাইকে এক ধর্মের মতো করে ভাবতে শেখানো নয়; বরং ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষকে সমান নাগরিক মর্যাদায় বাঁচতে দেওয়া। রাজনীতিবিদেরা যদি এই সহজ সত্যটি উপলব্ধি করেন, তাহলে দুর্গাপূজার মঞ্চে অতিরঞ্জিত বক্তব্যের প্রয়োজন হবে না, ধর্মীয় আচরণ নিয়ে অকারণ বিতর্কও কমবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে সবার অধিকার রক্ষা করা, আর রাজনীতির দায়িত্ব হবে সেই অধিকারকে ভোটের স্লোগান নয়, বাস্তব জীবনের নিশ্চয়তায় পরিণত করা।
আসাদ পারভেজ
ভূরাজনীতির গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক
