দুর্গাপূজায় আনসার-ভিডিপির হাতে আটক ৪৯, উদ্ধার ১৫ শিশু
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
উৎসবকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ১৩১টি ঘটনায় প্রতিরোধমূলক ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে সারাদেশের ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। উৎসবকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ১৩১টি ঘটনায় প্রতিরোধমূলক ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় ২৪টি পৃথক ঘটনায় ৪৯ জনকে আটক এবং ১৫ শিশুকে উদ্ধার করা হয়। দায়িত্ব পালনকালে চার আনসার-ভিডিপি সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আহত ও অসুস্থ হয়েছেন আরও ১৭ জন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিবের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, দক্ষ জনবল মোতায়েন, দ্রুত সাড়াদান এবং পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিচালনা করা হয়। পূজামণ্ডপ ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পূজা-পরবর্তী নিরাপত্তাব্যবস্থাও নেওয়া হয়।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়াদানের জন্য আনসার ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমের ৬২৪ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বাহিনীর নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থায় পর্যবেক্ষণ করা হয়।
বাহিনীর সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজাকেন্দ্রিক ১৩১টি ঘটনায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধমূলক ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রতিমা ভাঙার চেষ্টা ও ভাঙচুর প্রতিরোধের ২০টি, বিবাদমান সমস্যা সমাধানের ৩৬টি, অগ্নিসংযোগ প্রতিরোধের দুটি এবং মাদকসংক্রান্ত ১৩টি ঘটনা রয়েছে।
এ ছাড়া ২৪টি পৃথক ঘটনায় ৪৯ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে চুরির অপরাধে আটক করা হয় ছয়জনকে। ১৫টি শিশুকে উদ্ধারের পাশাপাশি ১৫টি ঘটনায় মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। বিবিধ সমস্যা-সংক্রান্ত আরও নয়টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রমে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী আনসার-ভিডিপি সদস্য দিন-রাত দায়িত্ব পালন করেন এবং নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত পূজামণ্ডপের ঘটনা বা দুর্ঘটনার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানান।
বাহিনীর দাবি, এ ব্যবস্থার ফলে বিশৃঙ্খলা, উসকানি, গুজব ও অপরাধ প্রতিরোধে পূজা উদযাপন কমিটি, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়েছে।
এ ছাড়া সদস্য নির্বাচন ও মোতায়েনে ‘এভিএমআইআএস’ এবং ‘এসটিডিএমএস’ সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রযুক্তি জনবল নির্বাচন, সুশৃঙ্খল মোতায়েন ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে।
বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, পূজা উদযাপন কমিটি ও আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সহযোগিতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেন।
২০ অক্টোবর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ক্ষমতাকেন্দ্রিক মানসিকতার পরিবর্তে জনসেবা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য দিয়ে সম্মিলিতভাবে দেশের জন্য কাজ করার এই সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় করতে হবে।
দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের আত্মত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।


