চীনে ২ দিনের এসসিও সম্মেলন
মার্কিন আধিপত্য ঠেকাতে এক ছাতায় পুতিন-শি-মোদি
তিয়ানজিনে ড্রাগন হাতি এক ঘাটে * ভারত-চীনের বন্ধুত্ব হওয়া প্রয়োজন : শি * আমাদের সম্পর্কে ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থ জড়িত : মোদি
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মার্কিন আধিপত্য ঠেকাতে এবার এক হয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কনীতির জবাব দিতে চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন তারা। রোববার থেকে শুরু হয়েছে দুদিনের এই শীর্ষ সম্মেলন। পুতিন ও মোদিসহ আরও ২০টিরও বেশি দেশের নেতারাও অংশ নিয়েছেন সম্মেলনে। আলজাজিরা, বিবিসি।
সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন এসসিও সদস্য দেশগুলোর নেতারা-রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়য়েভ, কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ এবং তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন। এছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের নেতারা এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। এ বছর এমন একসময়ে এসসিও সম্মেলন হচ্ছে যখন বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ শুরু হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে, গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা অব্যাহত আছে এবং দক্ষিণ এশিয়া ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বেশ কিছুদিন থেকেই বিভিন্ন দেশের ওপর বারবার ট্রাম্পের শুল্ক আরোপে বিশ্বজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা-এমন পরিস্থিতিতে এসসিও সম্মেলন শি’র সামনে নিজেদের একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসাবে উপস্থাপন করতে বড় প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করবে। এই সম্মেলন দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোকে একত্র করে পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সক্ষম করে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
দুই প্রতিবেশী দেশ চীন ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তবে গত বছরের শেষদিক থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্কের শীতলতা কমতে শুরু করেছে। ভারতীয় পণ্যের ওপর ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ নয়াদিল্লিকে বেইজিংয়ের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে এবং সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাধ্য করেছে।
দীর্ঘ সাত বছর পর শনিবার চীনে পৌঁছেছেন মোদি। সম্মেলনের একদিন আগেই চীনে পৌঁছান তিনি। সম্মেলনের এক ফাঁকে শি’র সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। বৈঠকের শুরুতে করমর্দন করেন তারা। শি বলেছেন, ‘ড্রাগন ও হাতির’ (চীন ও ভারত) এক মঞ্চে আসা প্রয়োজন।চীন ও ভারতকে দুই প্রাচীন সভ্যতার দেশ হিসাবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেছেন, তারা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশও। এই দেশ দুটি গ্লোবাল সাউথের অংশ। শি মনে করেন, এই দেশ দুটির বন্ধু হওয়া বিশেষ প্রয়োজন।
এদিকে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে ভারত-চীন সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তিনি। এছাড়া মোদি কৈলাশ মানসসরোবর যাত্রা পুনরায় চালু করা এবং ভারত-চীনের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপও করেন। তিনি বলেছেন, ‘দুই দেশের ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থ আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার সঙ্গে জড়িত। এটি সমগ্র মানবতার কল্যাণের পথও প্রশস্ত করবে।’ তবে চীনকে নিয়ে মোদির এমন আশাবাদ তার নিজ দেশে সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস চীন নিয়ে নরেন্দ্র মোদির অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছে, এই ‘নতুন বাস্তবতা’ চীনের দাদাগিরিকে প্রতিষ্ঠিত করছে। এদিকে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপের বিষয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানিয়েছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘মাথা নত’ করবে না এবং নতুন বাজারের সন্ধান চালিয়ে যাবে। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, যদি কেউ আমাদের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে চায়, তাহলে ভারত সর্বদা প্রস্তুত। কিন্তু ভারত কারও কাছে মাথা নত করবে না, কখনো দুর্বলতা দেখাবে না।’
রোববার সম্মেলনে যোগদানের আগে পুতিন বলেছেন, এই সম্মেলন সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও হুমকির জবাব দিতে এসসিওর সক্ষমতা বাড়াবে এবং অভিন্ন ইউরেশীয় অঞ্চলে সংহতি জোরদার করবে।
