কর্মসংস্থান বাড়ানোই লক্ষ্য
১০ হাজার কোটির তহবিল, ৮% সুদে কৃষক পাবে ঋণ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে কৃষকদের কম সুদে ঋণ দিতে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল থেকে কৃষকরা ৮ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। ঋণের মেয়াদ হবে দেড় বছর। ঋণ পরিশোধের জন্য তিন মাস পাবেন গ্রেস পিরিয়ড। পাঁচ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। ঋণ দেওয়া হবে সরল সুদে। ঋণের বিপরীতে সুদ বা মুনাফা ছাড়া অন্য কোনো চার্জ বা ফি আরোপ করা যাবে না। দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, পল্লি এলাকায় ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার সৃষ্টির লক্ষ্যে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। একটি আবর্তনশীল তহবিল হবে। অর্থাৎ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণের পর তা সুদসহ ফেরত এলে তহবিলে যোগ হয়ে এর আকার বৃদ্ধি করবে। পরে ওই তহবিল থেকে আবার ঋণ দেওয়া হবে। তহবিলের মেয়াদ ৫ বছর। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ পাবে ৪ শতাংশ সুদে। কৃষকদের মধ্যে তা সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদে বিতরণ করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকগুলোও ৮ শতাংশের বেশি মুনাফা দিতে পারবে না।
এ তহবিল থেকে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক, বর্গাচাষী, কৃষি উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে পারবেন। গ্রাহকের আবেদনের পর থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে এ খাতে ঋণ ছাড় করতে হবে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিরা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা, শস্য খাতে ৩০ লাখ টাকা, পল্লী ঋণ খাতে ১৫ লাখ টাকা, কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে ২০ লাখ টাকা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে এক কোটি টাকা ঋণ দেওয়া যাবে। এ তহবিল থেকে যাতে বেশি সংখ্যক কৃষক ঋণ পায় সেজন্য ঋণসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ তিন দফায় এই তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারবেন। নারী ও প্রান্তিক কৃষকদেরকেও এ খাত থেকে ঋণ দেওয়া যাবে।
সার্কুলারে বলা হয়, এই তহবিল থেকে কৃষকদের ঋণ দেওয়া হবে দেড় বছর মেয়াদে। ঋণ পরিশোধের জন্য কৃষক তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ড পাবেন। তহবিলের বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ প্রচার চালাতে হবে। প্রতিটি শাখা বা উপশাখায় বা অন্য কোনো দৃশ্যমান স্থানে ৮ শতাংশ সুদ বা মুনাফায় কৃষকদেরকে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করতে হবে। ফসল চাষের মৌসুম শুরুর আগেই কৃষকদেরকে ঋণ দিতে উৎসাহিত করতে প্রচার চালাতে হবে। তবে কোনো কৃষক কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ খেলাপি হলে এ তহবিল থেকে ঋণ পাবেন না। তিনি খেলাপি ঋণ নবায়ন করলে এই তহবিল থেকে ঋণ পাবেন। সার্কুলারে বলা হয়, পল্লি এলাকায় ঋণের প্রবাহ বাড়ানো গেলে এক দিকে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হবে, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন বাড়বে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এসবের ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে। তহবিলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ তদারকি করা হবে।
