বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন
মূল্যস্ফীতির চাপে কমছে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মজুরি বাড়ার চেয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে বেশি হারে। এতে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমছে। প্রায় দেড় বছর ধরে মজুরি ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির হারের মধ্যে ব্যবধান কমছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বরে সেই ব্যবধান আবার বেড়েছে। অর্থাৎ মানুষের আয় যে হারে বাড়ছে, তার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সতর্কতা অবলম্বনের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেশের সার্বিক অর্থনীতির মৌলিক সূচক নিয়ে তৈরি এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং তা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সতর্ক থাকতে হবে। মূল্যস্ফীতির হার নিুমুখী থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি উপকরণের দাম বাড়ায় তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর পাশাপাশি আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। ওই মাসে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে। বিপরীতে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে হয় ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। ফলে দুই হারের ব্যবধান আবার বেড়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় দেড় বছর এ ব্যবধান কমছিল। অর্থাৎ মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির হারের কাছাকাছি আসছিল। এতে ভোক্তার ওপর চাপ কিছুটা কমেছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত জ্বালানি উপকরণ ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেশি বাড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। একই সময়ে সব বিভাগেই মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে। তবে তুলনামূলকভাবে ঢাকা বিভাগে মজুরি বৃদ্ধির হার বেশি ছিল। যদিও জুলাইয়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মজুরি বৃদ্ধির গতি ছিল মন্থর। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারকে ছাপানো টাকা বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থায়নে ঋণ দেওয়ার পরিমাণ কমিয়েছে। উৎপাদন খাতে কম সুদে ঋণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য বিনিয়োগে সমন্বিত তহবিল গঠন করা হয়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্যোগও চলমান রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, আগামী বোরো মৌসুমে কৃষি উৎপাদন বাড়লে নিত্যপণ্যের দাম কমবে। একই সঙ্গে উৎপাদন খাতে ঋণের জোগান বাড়লে মজুরি বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মূল্যস্ফীতি নিরূপণের ঝুড়িতে থাকা ৩৮২টি পণ্যের মধ্যে সেপ্টেম্বরে ২০৩টির দাম বেড়েছে। কমেছে ২৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫৪টির দাম। বিশেষ করে ভোক্তার প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে এমন প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে প্রোটিনজাতীয় পণ্যের অবদানও বেড়েছে।
