চাষে সম্ভাবনা দেখছেন রায়হান
আব্বাস আলী, নওগাঁ
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নওগাঁয় বিদেশি জাতের প্যাশন ফ্রুট বা আনারকলি চাষ করে সম্ভাবনা দেখছেন উদ্যোক্তা রায়হান কবির। প্রচলিত চাষাবাদের বাইরে গিয়ে নতুন এ ফল চাষ করে নওগাঁর কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন চমক দেখিয়েছেন তিনি। এক বিঘা জমিতে এক মৌসুমে খরচ বাদে ৮-১০ লাখ টাকা আয় করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তার এ বাগান দেখে এলাকার অনেকেই চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষকের আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
সদর উপজেলার কাদোয়া গ্রামের মসলা ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা রায়হান কবির। সামাজিক মাধ্যম ইউটিউবে ভিডিও দেখে আমেরিকান ফল প্যাশন ফ্রুট বা আনারকলি চাষ সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি। পরে কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ এবং চারা সংগ্রহ করে শ্বশুর দুলাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে এক বিঘা জমিতে মাচা পদ্ধতিতে শুরু করেন আনারকলি চাষ। যেখানে জমি চাষ, মাচা তৈরি ও চারাসহ খরচ পড়েছে ৮০ হাজার টাকা। রোপণের ৫ মাসের মধ্যে গাছে ফুল আসা শুরু করে। ফলে পরিপক্ক হতে ৪৫-৫০ দিন লাগে। এরপর তা বিক্রির উপযোগী হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, মাচার নিচে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ ও গোলাপি রঙের আনারকলি। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে বাগানটি দেখতে অনেকে আসছেন এবং পরামর্শ নিচ্ছেন। আগামীতে অনেকেই চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। উপযোগী মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় এখন দেশের মাটিতে চাষ হচ্ছে এ ফল। পরিশ্রম, খরচ ও রোগবালাই কম হওয়ায় বিদেশি এ ফল চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষক।
উদ্যোক্তা রায়হান কবির বলেন, ইউটিউবে নতুন একটি ফল প্যাশন ফ্রুট-এর ভিডিও দেখলাম। যেখানে চাষাবাদ নিয়ে তেমন একটা ঝামেলা নেই মনে হয়েছে। এরপর কৃষি অফিসের উপসহকারী মশিউর রহমানের পরামর্শ নিলাম। তিনিও এ ফল চাষে আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং চারা সংগ্রহ করতে সহযোগিতা করেছেন। ঝিনাইদহ জেলা থেকে ব্রাজিলিয়ান ও ভিয়েতনামসহ চার জাতের চারা ২০০ টাকা পিস হিসাবে ২০০ পিস সংগ্রহ করা হয়। এক বিঘা জমিতে রোপণের পর কয়েকটি চারা নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে গাছে প্রচুর ফল আসছে। প্রতি কেজি ২০০ টাকা হিসাবে এ পর্যন্ত ২৫ হাজার টাকার ফল বিক্রি করা হয়েছে। খরচ বাদে এক মৌসুমে ৮-১০ লাখ টাকার আনারকলি বিক্রির আশা তার। একবার রোপণে কয়েক বছর পর্যন্ত এ গাছ থাকে।
তিনি বলেন, একই জমিতে মাচার নিচে ফাঁকা জায়গায় একাঙ্গী চাষ করা হয়েছে। এটি আদার মতো মাটির নিচে হয়ে থাকে। এ ফসল থেকে আরও ৬-৭ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে এ দুই ফসল চাষ করার আগ্রহ আছে। অনেকে চারা সংগ্রহ করেছে এবং অর্ডার দিয়েছে।
কাদোয়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, আনারকলি বা প্যাশন ফ্রুট একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং লাভজনক ফল। নওগাঁর মাটি ও আবহাওয়া এই ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আনারকলি চাষে পরিশ্রম ও খরচ কম এবং লাভ বেশি। বাজারজাতেও কোনো সমস্যা হয় না।
