Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

নওগাঁয় দক্ষিণ আমেরিকার ফল প্যাশন

বদলগাছীতে সাড়া ফেলেছেন মোরছালিন

Icon

সাগর হোসেন, বদলগাছী (নওগাঁ)

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে দক্ষিণ আমেরিকার ফল প্যাশন চাষ করে সাড়া ফেলেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. মোরছালিন আহমেদ। ১৪ শতাংশ জমিতে শুরু করেন বাগান। রোপণ করেন ৬২টি চারা। এখন বাগান থেকে প্রতিদিন ৮-১০ কেজি ফল সংগ্রহ করছেন। দেশে অনেকটা নতুন এই ফল চাষ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ ও স্থানীয় কৃষকরা। তাদের অনেকেই প্যাশন ফ্রুট চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

মোরছালিনের বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায়। তিনি বদলগাছী উপজেলার গ্রাম পাঁচঘড়িয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির সূত্রে চাচাশ্বশুরের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে এই ফলের চাষ শুরু করেন। ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলটির চাষ পদ্ধতি ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্পর্কে জেনে উদ্যোগী হন। সম্প্রতি বাগানে গিয়ে দেখা যায়, মাচার ওপর লতানো গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে প্যাশন ফ্রুট। কোনোটি সবুজ, কোনোটি পরিপক্ব হয়ে বেগুনি বা হলুদ রং ধারণ করেছে। ফলটির ভেতরে রয়েছে রসালো শাস ও অসংখ্য বীজ। টক-মিষ্টি স্বাদ ও বিশেষ সুগন্ধের কারণে ফলটি অনেকের কাছে আকর্ষণীয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এটি ‘আনারকলি’ বা ‘ট্যাং’ নামেও পরিচিত। প্যাশন দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উত্তর আর্জেন্টিনার পার্বত্য অঞ্চলের ফল। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এটি আফ্রিকা ও ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে পরিচিতি পায়। পরে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ভারতেও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। বাংলাদেশে পরিচিতি আসে পাহাড়ি অঞ্চলের মাধ্যমে। বর্তমানে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, সিলেট ও পঞ্চগড় অঞ্চলে সীমিত পরিসরে এর চাষ হচ্ছে। প্যাশনের প্রধানত দুটি জাত। বেগুনি জাত আকারে ছোট, স্বাদে মিষ্টি, ঠান্ডা বা নাতিশীতোষ্ণ পাহাড়ি অঞ্চলে ভালো ফলন দেয়। হলুদ জাত আকারে বড়, ফলের রস বেশি, উষ্ণ ও আর্দ্র এলাকায় ভালো বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে চাষ হয় বারি প্যাশন ফল-১। এটি হলুদ জাতের ফল এবং আকারে ৬.৮x৬.৩ সেন্টিমিটার। ফলের গড় ওজন ৬৮ গ্রাম এবং ৩০ গ্রাম রস পাওয়া যায়। প্যাশন ফ্রুট পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি ফল। এতে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, খাদ্য আঁশসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ফলটি তাজা খাওয়ার পাশাপাশি জুস ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়।

মোরছালিন জানান, পরীক্ষামূলক চাষ শুরুর জন্য তিনি কক্সবাজার থেকে চারা সংগ্রহ করেন। ১৪ শতাংশ জমিতে ৬২টি চারা রোপণ করেন। মাচা তৈরি, চারা সংগ্রহ ও জৈব সারসহ প্রথম দফায় তার খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। গাছ লাগানোর মাস তিনেকের মধ্যে ফুল ধরে, ফল আসে। বর্তমানে বাগান থেকে প্রতিদিন ৮-১০ কেজি ফল সংগ্রহ করতে পারছেন।

বাজারজাতকরণ সম্পর্কে মোরছালিন বলেন, অপ্রচলিত ফল হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা ও বিক্রির সম্ভাবনা আছে। স্থানীয় বড় ফলের দোকান ও সুপারশপে প্রতি কেজি প্যাশন ফ্রুট ৪০০-৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তার মতে, নতুন এই ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়লে এর উৎপাদন সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে উৎপাদন খরচ, বাজারের চাহিদা, ফলের সংরক্ষণব্যবস্থা ও নিয়মিত ক্রেতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। মোরছালিন বলেন, বদলগাছীতে প্যাশন ফ্রুট চাষে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে এই ফলের চাষ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, মোরছালিনকে উদ্বুদ্ধ এবং কারিগরি সহায়তা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি কোনো সহায়তা এলে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন মূল্যস্ফীতির চাপে কমছে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা

মূল্যস্ফীতির চাপে কমছে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা

নওগাঁয় দক্ষিণ আমেরিকার ফল প্যাশন বদলগাছীতে সাড়া ফেলেছেন মোরছালিন

বদলগাছীতে সাড়া ফেলেছেন মোরছালিন

চাষে সম্ভাবনা দেখছেন রায়হান

চাষে সম্ভাবনা দেখছেন রায়হান

খুলশীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অপরাধ সাম্রাজ্য

খুলশীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অপরাধ সাম্রাজ্য

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম