Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা

খেলাপি ঋণ বেচাকেনার বিধান রেখে আইন হচ্ছে

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

খেলাপি ঋণ বেচাকেনার বিধান রেখে আইন হচ্ছে

Advertisement

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে ডিস্ট্রেসড বা দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন হচ্ছে। এই আইনের আওতায় খেলাপি ঋণ বেচাকেনা করা যাবে। এর বিপরীতে ঋণগ্রহীতার সম্পদ আইনি সংস্থার জিম্মায় নিয়ে তার বিপরীতে নানা ধরনের বৈধ প্রক্রিয়ায় অর্থ সংস্থান করতে ঋণ বা শেয়ার ছাড়া যাবে। এসব সম্পদ ব্যবস্থাপনা করতে একটি স্বাধীন ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট স্থাপন করা হবে। এ প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ে লোন সার্বেয়ার কোম্পানি বা এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবে।

সূত্র জানায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েও আইনি জটিলতার কারণে খেলাপি ঋণ আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে সরকার এ আইন করার পদক্ষেপ নিয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে বিভিন্ন দেশে আইনটি রয়েছে।

ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইনের খসড়ায় এসব বিধান করা হয়েছে। আইনের খসড়াটি সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে অংশীজনের মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামতের ভিত্তিতে আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর এটি মন্ত্রিপরিষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে।

আইনের খসড়ায় বলা হয়, ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর খেলাপি, অবলোপন করা এবং নন পারফরমিং ঋণ এর আওতায় পড়বে। এছাড়াও যেসব ঋণ নবায়ন করা হয়েছে, কিন্তু নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা হচ্ছে না, ঋণের বিপরীতে জামানত নেই বা জামানতের মূল্য কমে গেছে-এ ধরনের ঋণও এ আইনের আওতায় আসবে। এসব ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে তা আইনি সংস্থার আওতায় নিয়ে বেচাকেনা করার জন্য একটি সেকেন্ডারি মার্কেট গঠন করা হবে। যেখানে ওইসব ঋণের বিপরীতে জব্দ করা সম্পদ বেচাকেনা করা যাবে। এর মাধ্যমে ঋণ আদায় করা হবে। খসড়ায় আরও বলা হয়, আইনের আওতায় একটি ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট স্থাপন করা হবে। এটি একটি স্বাধীন সংস্থা হবে। এর প্রধানের পদমর্যাদা হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের সমমানের। এ সংস্থা দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করতে পারবে। এই টাস্কফোর্স আইনের আওতায় দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনার কাঠামো করবে।

সংস্থাটি দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য পূর্ণ স্বাধীন থাকবে। স্বতন্ত্র আইনি সত্তা হিসাবে সম্পদ অধিগ্রহণ, ধারণ, বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন এবং আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মামলা করতে পারবে। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে।

দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য সংস্থাটি প্রয়োজনবোধে ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ও লোন সার্ভেয়ার কোম্পানির লাইসেন্স প্রদান, তদারকি, তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করবে। লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে তা বাতিলও করতে পারবে সংস্থাটি। সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংস্থাটিকে সময় সময় দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনার নীতি, আইন ও সংস্কারের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হবে।

ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো কোনো ঋণ আদায় করতে ব্যর্থ হলে তা এই সংস্থার কাছে ন্যস্ত করতে পারবে। পরবর্তী সময়ে সংস্থাটি ওইসব ঋণ আদায়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম