সিনিয়র শিক্ষার্থীর ওপর হামলার বিচার দাবিতে জাককানইবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা
Advertisement
জাককানইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর ওপর জুনিয়র শিক্ষার্থীদের হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকাল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২১ জুন রাতে বিদ্রোহী হলে গাঁজাসেবন সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে আইন ও বিচার বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হান্নান ও দর্শন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই বিদ্রোহী হলের ৬১৫ নম্বর কক্ষে খাবার খাওয়ার সময় মুগ্ধসহ কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী হান্নানের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পরপরই আইন ও বিচার বিভাগ এবং দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা একপর্যায়ে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদাকে আহ্বায়ক এবং প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটি ঘটনার কারণ, দায়-দায়িত্ব এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সিনিয়র শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং পূর্ববর্তী একাধিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনার যথাযথ সমাধান না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি বারবার ঘটছে।
তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ আমরা দেখছি না। ঘটনার দিন প্রক্টরকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। প্রশাসন আসলে কী চায়, তা স্পষ্ট করা উচিত। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে আজকের এই অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
তারা আরও বলেন, সিনিয়র শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুতবিচার ও শাস্তি নিশ্চিত না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
প্রশাসনিক ভবনে তালা দিলে পরে প্রক্টর ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের তালা খুলে আন্দোলন স্থগিত রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেন এবং বিষয়টি দ্রুত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন।
