ছারপোকা দমনেই খরচ ৩২ লাখ, হিসাব নিয়ে যা বললেন ডাকসু ভিপি
Advertisement
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সহসভাপতি আবু সাদিক।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছারপোকা নিধন কর্মসূচিতে ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এই ব্যয়ের সব হিসাব ও রসিদ ডাকসুর কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ।
তিনি বলেন, হিসাব অডিট টিমের কাছে জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনে তা গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক বছরের দায়িত্বকালীন বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রকাশ করে ডাকসু। এতে শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা, গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েম কার্যক্রম ও জবাবদিহির প্রতিবেদন তুলে ধরেন। সেখানে বছরব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রমের ব্যয়ের তথ্যও উপস্থাপন করা হয়। তবে সম্পূর্ণ কার্যক্রমের অডিট প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, দায়িত্ব পালনের পুরো বছরের কাজকে তারা মোট ৪১টি ভাগে ভাগ করেছেন। পুরো বছরে তারা যে কাজগুলো করেছেন, সেগুলোর সংখ্যা এক হাজারের বেশি।
প্রকাশিত উপস্থাপনায় ছারপোকা নিধন কর্মসূচিতে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে জানতে চান, ছারপোকা নিধনে এত টাকা কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং এর পূর্ণ হিসাব কী।
ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজের যুগান্তরকে বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিকে ছারপোকা নিধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। মানে ৩২ লাখেরও বেশি। আমরা এটাকে রাউন্ড ফিগারে নেওয়ার জন্য ৩৩ লাখ বলিনি। বরঞ্চ ৩২ লাখ বলেছি।
তিনি বলেন, টোটাল রুমে দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৮৭৭টা এবং এখানে বেড সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৭২৯টা।
ছারপোকা নিধন কর্মসূচির ব্যয় নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক বলেছেন, ব্যয়ের পূর্ণ হিসাব ও রসিদ তাঁদের কাছে রয়েছে এবং অডিট প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনে তা প্রকাশ করা হবে।
তিনি বলেন, এটা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে আমি এই ভাউচারটা সরাসরি ফেসবুকে পোস্ট করে ফেলতে চাইছিলাম। ডাকসুর ভিপি-জিএসের পরামর্শে তা পোস্ট করা হয়নি। এই মুহূর্তে তা প্রকাশ করলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যেসক নিউজ করা হয়েছে, এতে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতি চাপ বাড়বে এবং ওরা ইনসেনটিভে ভুগবে। যেহেতু ওরা আমাদের সঙ্গে ক্লায়েন্ট হয়ে কাজ করছে, সেক্ষেত্রে ওদেরকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলাটা ঠিক হবে না।
ছারপোকা নিধন কর্মসূচির ব্যয়ের হিসাব সম্পর্কে মিনহাজ বলেন, এই যে ৩২ লাখ টাকা আমরা বলেছি বা খরচ করেছি, এটা বিশ্ববিদ্যালয় যে ৩৫ লাখ টাকা দিয়েছে, এই প্রজেক্ট থেকে এক টাকাও এখানে দেওয়া হয়নি। আমরা স্পনসর ম্যানেজ করেছি এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এখানে কোনো টাকা নিইনি। অতএব এটা নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করার বিষয়ে জানতে চাইলে মিনহাজ বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ কাজটা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। যদি প্রশ্নটা শিক্ষার্থীদের দিক থেকে আসত, তাহলে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে হয়তো প্রকাশ করতাম। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে দায়বদ্ধ, মিডিয়া হাউস বা অন্য কারও কাছে এটা আমরা দেখাতে দায়বদ্ধ নই। অডিট প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনে তা প্রকাশ করা হবে।

-6aacecc19cc72.jpg)