উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব নিয়ে জানেন না চুয়েট শিক্ষকরা
Advertisement
চুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলন গড়িয়েছে ২০তম দিনে
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলন গড়িয়েছে ২০তম দিনে। এ দাবিতে অব্যাহত কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
অন্যদিকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানের ওপর অর্পণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে একটি শোভাযাত্রা নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে যান এবং সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এদিকে শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে তারা বলেন, যে উপাচার্যের নিয়োগ ও অবস্থান শিক্ষার্থীরা মেনে নেননি, তার দেওয়া কোনো দায়িত্বভারও শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাময়িক দায়িত্ব প্রদান বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প মেনে নেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে রোববার সকাল ৯টায় উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে সকাল ৯টায় ঘোষিত কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিস হাসান বলেন, অনিবার্য কারণবশত সকাল ৯টায় নির্ধারিত কর্মসূচি শুরু করা যায়নি। তবে বেলা ১১টার দিকে আমরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিই। সেই সময় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সেখানে কর্মসূচিতে ছিলেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
রুটিন দায়িত্ব নিয়ে জানেন না শিক্ষকরা:
এদিকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অফিস আদেশ বা নোটিশ পাননি বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, অতীতে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব কেউ পেলে নির্দিষ্ট অফিস আদেশ হতো। উপাচার্যের অবর্তমানে কে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং কত দিনের জন্য পেয়েছেন, তা দাপ্তরিক নোটিশের মাধ্যমে জানানো হতো। কিন্তু আমরা এ ধরনের কোনো অফিস আদেশ পাইনি। ফলে কে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং কত দিনের জন্য, তা আমাদের জানা নেই।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্তির বিষয়ে আমি ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছি। কিভাবে এই দায়িত্ব অর্পণ হলো, তা ফেসবুক কর্তৃপক্ষই হয়তো বলতে পারবে!
এদিকে শনিবার শিক্ষক সমিতি এবং রোববার কর্মচারী সমিতির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত চলমান পূর্ণ কর্মবিরতি আরও জোরালো করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
