সৌরবিদ্যুতের পরিকল্পনায় যাচ্ছে নোবিপ্রবি
Advertisement
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাসিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝা কমাতে এবং টেকসই পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। পুরো ক্যাম্পাসকে সৌরবিদ্যুতের (সোলার পাওয়ার) আওতায় আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ‘গ্রিন ডায়ালগ: জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এই পরিকল্পনার কথা জানান নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০০ একর আয়তনের এই ক্যাম্পাসে প্রতি মাসে কেবল বিদ্যুৎ বিল বাবদই গুনতে হচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৪ লাখ টাকা। ক্রমবর্ধমান এই ব্যয় সামাল দিতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সোলার সিস্টেম সম্প্রসারণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পাসে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রতি একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এই ল্যাবের ছাদেই ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০০ বর্গফুটের একটি সোলার প্ল্যান্ট বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
প্রাথমিক এই সোলার সিস্টেমটির কার্যকারিতা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, এই ছোট উদ্যোগটি থেকেই বছরে প্রায় ২৩ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব, যার দৈনিক গড় উৎপাদন প্রায় ৬৩ ইউনিট। সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রচলিত বিদ্যুতের তুলনায় সৌরবিদ্যুতে খরচ অনেক কম। প্রথাগত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রতি ইউনিটের পেছনে যেখানে প্রায় ১০ টাকা ব্যয় হয়, সেখানে সোলার সিস্টেমের প্রতি ইউনিটের খরচ পড়ছে মাত্র সাড়ে ৩ টাকা। অর্থাৎ, ইউনিটপ্রতি প্রায় সাড়ে ৬ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই অর্থনীতির রূপরেখায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, সরকারের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এআই ল্যাবের এই সফল উদ্যোগকে মডেল হিসেবে ধরে পরবর্তীতে পুরো নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসকে সৌরবিদ্যুতের সুবিধার আওতায় আনার ইচ্ছা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যয় যেমন হ্রাস পাবে, তেমনি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে একটি সবুজ ও টেকসই ক্যাম্পাস গড়ে তোলাও সহজ হবে।

-6ad0c817673f8.jpg)