প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া
ছাদভিত্তিক সর্ববৃহৎ সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের চুক্তি করল যমুনা গ্রুপ
প্রকল্পটি চালু হলে দিনে উৎপাদিত হবে ৩৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ * বছরে কার্বন নিঃসরণ এড়ানো সম্ভব হবে ৩০ হাজার টন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
৩৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন চুক্তিতে স্বাক্ষর করছেন যমুনা গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক সুমাইয়া রোজালিন ইসলাম ও গ্রিনার গার্মেন্টস ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আলম। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বেস্টসেলারের কার্যালয়ে -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে যমুনা গ্রুপ। গ্রিনার গার্মেন্টস ইনিশিয়েটিভ (জিজিআই)-এর সঙ্গে ৩৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য স্বনামধন্য শিল্পগোষ্ঠীটি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করেছে। পরিচালন ব্যয়ভিত্তিক মডেলের আওতায় হওয়া চুক্তিটি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে এ ধরনের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। দেশের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এই উদ্যোগ নিল যমুনা গ্রুপ।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় গুলশানে বেস্টসেলারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যমুনা গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক সুমাইয়া রোজালিন ইসলাম ও জিজিআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আলম চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের অর্থায়ন, নির্মাণ, মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে জিজিআই। ফলে এ প্রকল্পে যমুনা গ্রুপকে কোনো প্রাথমিক বিনিয়োগ করতে হবে না। উৎপাদিত বিদ্যুতের জন্য নির্ধারিত হারে জিজিআইকে অর্থ পরিশোধ করবে যমুনা গ্রুপ।
প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৪৬ হাজার মেগাওয়াট/ঘণ্টা পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বছরে ৩০ হাজার টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো সম্ভব হবে। এ পরিমাণ কার্বন শোষণ করতে বছরে ১০ লাখের বেশি গাছের প্রয়োজন হয়।
১৯৭৪ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম যমুনা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। যমুনা ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী। টেক্সটাইল, প্রকৌশল, রাসায়নিক, চামড়া, আবাসন, গণমাধ্যম, ভোগ্যপণ্য, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন খাতে গ্রুপটির ৪২টি কৌশলগত ব্যবসায়িক ইউনিট রয়েছে।
জিজিআই যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে হার্টল্যান্ড (বেস্টসেলারের হোল্ডিং কোম্পানি) এবং সলশেয়ার। প্রতিষ্ঠানটি ট্রুভ্যালু ও ওয়ান টু ওয়াচের ওআরই ফান্ডের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। বেস্টসেলারের সরবরাহকারী হিসাবে যমুনা গ্রুপের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে এই রূপান্তর বেস্টসেলারের কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।
প্রসঙ্গত, দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। জাতীয় সংসদ ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন থেকে শুরু করে সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনায় রুফটপ সোলার ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে আর্থিক প্রণোদনা ও করছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিকবার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। সর্বশেষ ফেনীতে একটি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন করে তিনি বাড়ি, অফিস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সম্ভব হলে সৌর বা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের উদ্যোগের অন্যতম দৃশ্যমান সূচনা হয় ২৪ মে। ওইদিন জাতীয় সংসদ ভবনে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পটির সক্ষমতা এক মেগাওয়াট। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আজ আমরা এমন একটি উদ্যোগের উদ্বোধন করছি, যা শুধু একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগই নয়; বরং এটি বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যতের একটি প্রতীক।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কিলোওয়াট ঘণ্টা সৌরশক্তি পাওয়া যায়। আমাদের অসংখ্য ছাদ, শিল্প এলাকা, খোলা জমি এবং উপকূলীয় অঞ্চল নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিশাল সম্ভাবনা ধারণ করে আছে।’ সেদিন তিনি দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদেরও এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জাতীয় সংসদ ভবনের এই উদ্যোগ দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রাণিত করবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও প্রতিটি নাগরিক যদি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির এ অভিযাত্রায় অংশ নেয়, তবে বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই টেকসই উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।’ এছাড়া সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ‘জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি’ চালুর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসাবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী যমুনা গ্রুপ। এরই অংশ হিসাবে বৃহস্পতিবার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলো।
