আইসিটি বইয়ে কেনো দাঁড়িপাল্লা প্রতীক, যা বলল এনসিটিবি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইসিটি বইটির বিষয় বিশেষজ্ঞ এনসিটিবি কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল যোবায়ের।
তিনি বলেন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দেও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে এক শিক্ষক শিশুদের প্রজ্ঞা বোঝার অসুবিধার কথা জানিয়ে এর পরিবর্তে বুদ্ধির প্রতীক ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এরপর প্রতীক পরিবর্তন করা হয়। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আবার প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতীকটি ব্যবহারের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘উইসডোম আসলে শিক্ষা। ছবি আঁকেন আমাদের আর্টিস্টরা। হায়ার করা আর্টিস্ট। তাদের টিম এসেছিল। তারা প্রজ্ঞা দেখে সেখানে দাঁড়িপাল্লা এঁকেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি নলেজ পিরামিড গুগলে সার্চ দিলে দেখবেন, উদাহরণে প্রজ্ঞার আইকন দাঁড়িপাল্লা দেওয়া আছে। যারা ছবি এঁকেছে তারা হয়তো ওটা দেখেই এঁকেছে। আমাকে পাঠিয়েছে, আমি ইনসার্ট করেছি।’
বিষয়টি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়নি উল্লেখ করে মু. আব্দুল্লাহ আল যোবায়ের বলেন, ‘এটা আইসিটির বই, এখানে পলিটিক্যাল ইস্যু মাথায় কাজ করবে না। এই বইয়ে পলিটিক্যাল লেন্স কাজ করে না।’
প্রজ্ঞার অর্থ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘উইসডোম মানে হলো জাজ করা। ভালো খারাপ বিচার করা। অর্থাৎ ভালো মন্দ জাস্টিফাই করার যে ক্ষমতা, এটাই প্রজ্ঞা। আমাদের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টও এটাই ব্যবহার করে। এমনকি হার্ভাডের যে ল ডিপার্টমেন্ট, সেখানেও জাস্টিস হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হয়। দাঁড়িপাল্লা অ্যাজ এ প্রতীক হিসেবে প্রজ্ঞার কথা বলে।’
তিনি ৩৫ ব্যাচের বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্মা। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে গেজেটভুক্ত হওয়ার পরে ১ মাসের মতন একটি কলেজে দায়িত্ব পালন করেন। এরপরে সরাসরি এনসিটিবিতে পদায়ন হয় তার। এনসিটিবির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না রাখার শর্তে বলেন, তিনি একেবারে নবীন। এমন গুরুত্বকাজের দায়িত্ব তাকে দেওয়া উচিত হয়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীক পরিবর্তনের পর আবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

