শিক্ষকদের নতুন পে স্কেলের চিঠিতে স্মারক নম্বরে ভুল, যা বলছে মন্ত্রণালয়
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে চিঠির স্মারক নম্বরের শেষে ২০১৯ লেখা থাকায় এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তাদের অভিযোগ, সেখানে ২০২৬ লেখা থাকার কথা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১ নভেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ১২ মাসের বেতন-ভাতা দিতে প্রয়োজনীয় অর্থের হিসাব তুলে ধরা হয়।
হিসাব বিবরণী পাওয়ার পর তা দ্রুত অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। দ্রুত চিঠি সম্পাদনা করতে গিয়ে টাইপিং ভুলের কারণে স্মারক নম্বরে ২০১৯ লেখা হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয় সূত্র। তবে বরাদ্দ চাওয়া টাকার অঙ্কে কোনো ভুল হয়নি। শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতাসহ প্রয়োজনীয় অর্থের হিসাব করেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সোমবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগামী ৪ নভেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন কর্মসূচি রয়েছে। বিষয়টি সরকার অবগত। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত পে স্কেলে অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। টাইপিং মিসটেকের কারণে স্মারকে ভুল হয়ে থাকতে পারে।’
শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে থেকে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি নির্ভর করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর। অর্থ মন্ত্রণালয় যত দ্রুত সম্মতি দেবে, তত দ্রুতই শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন স্কেলে বেতন-ভাতা পাবেন।’
এর আগে রোববার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুকূলে এ অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাদের চাকরির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, কল্যাণ এবং সামগ্রিক সেবার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে আনুপাতিক বাজেট বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান ও পেশাগত দক্ষতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং বেসরকারি কলেজগুলোর জন্য ৭৩৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
এ অর্থ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ দিতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে।
