টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে নয়া পল্টনসহ বিভিন্ন সড়ক
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
টানা বৃষ্টিতে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে গেছে পানি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টানা বৃষ্টিপাতে রাজধানীর সড়কসহ অলি-গলি ও বিভিন্ন সড়ক ডুবে গেছে। নয়া পল্টনের লম্বা সড়কে কোমড় সমান পানি দেখা গেছে। এ সড়কে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। বৃষ্টিতে কার্যালয়ের নিচতলায় ঢুকে গেছে পানি ।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে গিয়ে দেখা গেছে, ফটুপাতের ওপরে দিয়ে পানি বিএনপির অফিসের নিচের তলার সিড়ির কাছে থৈ থৈ করছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সকালে অফিসে আসেন এবং দুপুরে যখন অফিস ছেড়ে যান তাকে পানি ডিঙ্গিয়ে নিতে কার্যালয়ের ভেতরে রিকশা এনে পার করতে হয়েছে।
সকালে বাসা থেকে নয়া পল্টনের অফিসে আসেন রুহুল কবির রিজভী। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দলের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করতে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উ্ন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, অধ্যাপক আমিনুল ইসলামকেও পানি ডিঙ্গিয়ে অফিসে আসতে দেখা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কর্মী সোহেল মাহমুদ বলেন, নয়া পল্টনের সড়কে এখন পানি এতো বেশি আটকে আছে যে, পুরো সড়কটাই ডুবে গেছে। যানবাহনও চলতে পারছে না পানির কারণে।
বিএনপির অফিস কর্মী শামীম বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত রাত থেকে। সকাল থেকেই পল্টনের সড়কের পানি জমতে শুরু করে। সকাল ৯টার আগেই ফকিরাপুল মোড় থেকে কাকরাইল পর্যন্ত লম্বা সড়কে যেন কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের মতো পানির ঢেউ এসে কার্যালয়ের ভেতরে আচঁড় খাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি অফিসে ছিলাম। আমাদের কয়েকজন সহকর্মীকে পানি ডিঙিয়ে অফিসে আসতে হয়েছে।
বিজয়নগর, কাকরাইল, ফকিরাপুল, শান্তিনগর, মালিবাগসহ বিভিন্ন সড়ক সকাল ১০টার মধ্যে পানিতে ডুবে যায়। সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার অফিস-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে এতে।
বিজয়নগরের কাছে পরিচ্ছন্নতা কর্মী সুলায়মান বলেন, সকালে কাজে বেরিয়ে দেখি রাস্তায় পানি। পানি ডিঙ্গিয়ে মানুষজনের ঘর থেকে ময়লা সংগ্রহ কঠিন কাজ। সকালে বৃষ্টির মাত্রা বেশি ছিলো। ফলে ময়লা সংগ্রহ থমকে গেছে। এখনো অনেক বাড়ি-ঘরে ময়লা সংগ্রহ বাকী আছে। অন্য সময় দুপুরের মধ্যে কাজ শেষ হতো । আজকে এখন বেলা দুইটা বাজে কাজ শেষ করতে পারিনি।
নয়া পল্টনের সড়কের দুই ধারে রয়েছে বিভিন্ন গাড়ির শো-রুম। রয়েছে, বিপণিবিতান। এ সড়কের পাশের সব দোকানপাটে পানি প্রবেশ করেছে।
বিজয়নগরের বাসিন্দা আনোয়ারুল আলম খান বলেন, আজকে অফিসে যেতে বের হয়ে পুরোটা ভিজে গেছি। আবার বাসায় এসে কাপড় বদলে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি। সড়কে এতো পানি যে, কোনো রিকশা কিংবা অটো যাচ্ছে না। দেখবেন নয়া পল্টনের সড়কে বিভিন্ন স্থানে সিএনজি এবং ছোট প্রাইভেট কার থেকে আছে। কারণ ওইসব যানে পানি ঢুকে যাওয়ায় তা চলছে না। একটা অস্বস্তিকর অবস্থা।
তিনি বলেন, আধাবেলা টানা বৃষ্টি হলেই মালিবাগ, কাকরাইল, শান্তিনগর, নয়া পল্টন ডুবে যায়। এটা নতুন কোনো সমস্যা নয়। আমার মনে হয়, সরকারের এই দিকে দ্রুত নজর দেয়া উচিত। রাজধানী যদি ডুবে থাকে তাহলে তো দেশ চলবে কীভাবে?

