ওষুধ পাচারের অভিযোগে চীনা নাগরিকসহ গ্রেফতার ৪
Advertisement
সবুজবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
ওষুধ চোরাচালানের অভিযোগে চারজন গ্রেফতার।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়ে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা মূল্যের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ চোরাচালানের অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধের পাশাপাশি নগদ ৬ লাখ ৬ হাজার ১৪০ টাকা জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় এসআরবি-এর একটি দল। অভিযানে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে বিদেশে ওষুধ পাচার ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- চীনের হুনান প্রদেশের নাগরিক লি ফেন (৩৪), রংপুরের বকুল নাহার বীথি (২৪), সাতক্ষীরার ইউনুস আলী (২৬) এবং পটুয়াখালীর সজীব হাওলাদার (২৮)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতার চীনা নাগরিক লি ফেন ২০২৪ সালের আগস্টে পর্যটন ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। এরপর থেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চীনে ফিরে গিয়ে পুনরায় পর্যটন ভিসায় বাংলাদেশে আসতেন।
অন্যদিকে, গ্রেফতার বকুল নাহার বীথি ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের হুনান নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। সেখানে অবস্থানকালে চীনা ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। দেশে ফিরে বিভিন্ন চীনা নাগরিকের দোভাষী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
এসআরবির তথ্যমতে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ওষুধ পাচার করে আসছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া ক্যান্সারসহ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত মূল্যবান ওষুধ বিদেশে পাচার করে বিপুল মুনাফা অর্জন করছিল চক্রটি।
চোরাচালানের ক্ষেত্রে প্রতিটি কার্টনে ২৪ থেকে ২৫ কেজি ওষুধ ভরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।
মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী আরও জানান, গত ১৩ অক্টোবর বৈধ কাগজপত্র না থাকায় কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো প্রায় ১০০ কেজি ওজনের একটি ওষুধের চালান লাওসের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জব্দ করে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মচারী অধিক মুনাফার আশায় চোরাচালান চক্রটির সঙ্গে যোগসাজশ করে অবৈধভাবে ওষুধ সরবরাহ করে আসছিলেন বলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে।
এসআরবি জানিয়েছে, জব্দ করা ওষুধের ধরন, পরিমাণ এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। গ্রেফতার চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

