শ্রমিক ভিসার নামে দেয় ভ্রমণ ভিসা, অভিযোগের পর পুলিশকেও হেনস্তা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২২ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর পল্লবীতে শ্রমিক ভিসায় লাওসে পাঠানোর কথা বলে টাকা ও পাসপোর্ট নেওয়ার পর ভ্রমণ ভিসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় ট্রাভেল এজেন্সির কর্মকর্তা সোহেল রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভোক্তভোগী গিয়াস উদ্দীন মোল্লা। এর জেরে ভুক্তভোগী এমনকি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাও হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
জানা গেছে, গত ১৪ মে এ ঘটনার পর ২৩ জুন পল্লবী থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পরে টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দিতে সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় এক পর্যায়ে তাকে ফোন করেন মিরপুর বিভাগের সদ্য সাবেক উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার। পরে ডিসি তাকে ফোন করে টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দিতে বলেন। কিন্তু ওই ফোনালাপের একটি রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়।
তবে সোহেল রানা বলছেন, পুলিশের সহায়তায় তিনি আগেই বিষয়টি মিটিয়ে ভুক্তভোগীর টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন। এদিকে কল রেকর্ড ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হলেও ভুক্তভোগীর টাকা ও পাসপোর্ট উদ্ধারে পুলিশের শক্ত অবস্থানের প্রশংসা করছেন অনেকেই।
থানায় করা অভিযোগে গিয়াস উদ্দীন মোল্লা উল্লেখ করেন, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে সোহেল তাকে লাওসে ওয়ার্ক ভিসায় পাঠানোর কথা বলেন। এ জন্য সোহেলের অফিস সহকারী ফারহান আহমেদের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মূল পাসপোর্ট ও ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। বিদেশে পাঠানোর জন্য সোহেলের সঙ্গে তার ৪ লাখ ১০ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। গত ১৪ মে তাকে ওয়ার্ক ভিসার পরিবর্তে টুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে চাইলে সোহেল তাকে ওই ভিসায় লাওসে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় টুরিস্ট ভিসার জরিমানা বাবদ ১ হাজার ৮০০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিদেশ যাওয়ার আশায় সোহেলের কথায় বিশ্বাস করে টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার মূল পাসপোর্টও সোহেলের কাছে থেকে যায়। পাসপোর্ট ফেরত চাইলেও তা দেওয়া হয়নি।
পল্লবী থানার ওসি হাসান বলেন, আমরা একাধিকবার তাকে টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার জন্য বলেছি। তিনি তা মানছিলেন না। এক পর্যায়ে আমাদের ডিসি স্যার তাকে ফোন করে দ্রুততম সময়ে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই ফোনের কথোপকথন রেকর্ড করে ভিন্নভাবে প্রচার করা হচ্ছে। পুলিশকেও হেনস্তা করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত সোহেল বলেন, গিয়াসের সঙ্গে একটি ঝামেলা হয়েছিল, যা পুলিশের সহায়তায় দুই মাস আগেই মিটে গেছে। পাসপোর্ট ও টাকা ফেরত দিয়েছি। কিন্তু কে বা কারা ডিসি স্যারের সঙ্গে আমার কল রেকর্ড ফাঁস করেছে, সেটা আমি জানি না। যে কল রেকর্ড ফাঁস করেছে, তার বিরুদ্ধে আমি থানায় জিডি করছি। ডিসি মোস্তাক তার কাছে কোনো টাকা চাননি উল্লেখ করে সোহেল বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী টাকা ফেরত দিতে বলেছিলেন।
তৎকালীন মিরপুর বিভাগের ডিসি মোস্তাক বর্তমানে লালবাগ বিভাগে কর্মরত। তিনি বলেন, গিয়াসের টাকা ও পাসপোর্ট আটকে রেখেছিল সোহেল। আমি ফোন করে কড়া ভাষায় সেই টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দিতে বলেছি। সেই কথপোকথন রেকর্ড করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

-6ab39936b926c.jpg)