দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে শাহবাগে সংহতি সমাবেশ
Advertisement
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
রাজধানীর শাহবাগে ‘ভারতীয় ছাত্র-জনতার পাশে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে কর্মসূচি পালন করা হয়। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দিল্লিতে চলমান আন্দোলনে পুলিশি দমন-পীড়ন ও গণগ্রেফতার বন্ধের দাবিতে এবং আন্দোলনরত ভারতীয় ছাত্র-জনতার প্রতি সংহতি জানিয়ে ঢাকায় সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর শাহবাগে ‘ভারতীয় ছাত্র-জনতার পাশে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক ও ঢাকা নগর শাখার সভাপতি নওশিন মুসতারি সাথীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, ডা. হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, লেখক ও গবেষক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সহকারী সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চৌধুরী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের অর্থ সম্পাদক স্কাইয়া ইসলাম ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
সমাবেশে জামশেদ আনোয়ার তপন বলেন, ভারতের ভোটার তালিকায় কারচুপি করে ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ উঠেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে তার পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবকেরা দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন। কিন্তু আন্দোলন দমনে ভারত সরকার পুলিশি দমন-পীড়ন ও গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। তিনি এর নিন্দা জানান।
বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নৃশংস দমন-পীড়নের ঘটনা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের কথিত দাবির আড়ালে থাকা বাস্তবতাকে উন্মোচিত করে।
একই সঙ্গে এ গণপ্রতিরোধ সমকালীন বিশ্বব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গভীর সংকটকে স্পষ্ট করে এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিপ্লবী গণআন্দোলন গড়ে তোলার সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসে। তার মতে, বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিপ্লবী সংগ্রাম ছাড়া শেষ পর্যন্ত জনগণের বিজয় অসম্ভব।
ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, দমন-পীড়ন ও গ্রেফতার করে গণ-আন্দোলন থামানো যায় না। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনার দমন-পীড়ন এবং শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের বিজয় এর অন্যতম উদাহরণ। তিনি অবিলম্বে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং ন্যায়সংগত আন্দোলনে দমন-পীড়ন ও গ্রেফতার বন্ধের দাবি জানান।
সমাবেশের সঞ্চালক নওশিন মুসতারি সাথী বলেন, ভারত সরকারের প্রতি আন্দোলনের গণদাবিগুলো অবিলম্বে মেনে নেওয়া এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণকে তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাদের প্রতি বিপ্লবী সংহতি ও শুভেচ্ছা জানান।
অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, ভারতের ছাত্র, কৃষক, আদিবাসীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন। এর ধারাবাহিকতায় ভোট কারচুপির অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। বাংলাদেশের জনগণ ভারতের জনগণের ন্যায়সংগত লড়াইয়ে পূর্ণ সংহতি জানায়। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের জনগণের মিত্র। তবে ভারতের সরকারের আধিপত্য বিস্তার, সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার, সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন ও লুটপাটের বিরোধিতা করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশে দেশে বৈষম্য ও নিপীড়নবিরোধী লড়াইকে শক্তিশালী করতে ভারতীয় ছাত্র-জনতার প্রতি সংহতি জানানো জরুরি। বিভিন্ন দেশের চলমান লড়াইয়ে সংহতি গড়ে তুলতে না পারলে দানবীয় সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করা সম্ভব নয়। জনগণ আর সরকার এক নয়। ভারতের জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও লড়াইয়ের বন্ধন দীর্ঘদিনের এবং দৃঢ়।
তিনি বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছে, সীমান্তে হত্যা চালাচ্ছে, করপোরেট আধিপত্য বিস্তার করছে এবং বাংলাদেশের স্বৈরাচারী সরকারকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে। তিনি ভারতীয় আধিপত্য ও স্বৈরাচারী দমন-পীড়নের বিরোধিতা করেন।
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, করপোরেট ফ্যাসিবাদ ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ একাকার হলে কতটা ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে, তার উদাহরণ বিজেপির শাসন। সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মকে ব্যবহার করে করপোরেট স্বার্থে দেশে দেশে যে ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে, তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশ শেষে শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত একটি সংক্ষিপ্ত মিছিল বের করা হয়।


