গুলশানের রেস্টুরেন্টে ৪ কোটি টাকার বিদেশি মদ-বিয়ার জব্দ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর গুলশানে কিংফিশার রেস্টুরেন্ট লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্র না থাকা ২ হাজার ৩৫৯ লিটার বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ দল। জব্দ করা এসব পণ্যের শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এতে সহযোগিতা করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১)। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ। এ সময় সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ও কর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর সূত্র জানায়, উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য, বিশেষ করে বিদেশি মদ ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সংগ্রহ ও বিক্রির তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযানে রেস্টুরেন্টের গুদাম ও প্রদর্শনস্থলে থাকা মদ-বিয়ারের হিসাব নেওয়ার সময় একটি গোপন কক্ষের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। ওই কক্ষে রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত না থাকা বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার মজুত ছিল।
অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৮২৬ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এসব মদের বাজারমূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। তবে শুল্ক-কর যুক্ত করলে এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।
এ ছাড়া হেইনেকেন ও হান্টারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১ হাজার ৫৩৩ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। এসব বিয়ারের শুল্ক-করসহ মূল্য প্রায় ৫০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জব্দ করা মদ ও বিয়ারের পরিমাণ ২ হাজার ৩৫৯ লিটার এবং শুল্ক-করসহ মোট মূল্য ৪ কোটি ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
অভিযানে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
প্রাথমিক তদন্তে এনবিআর জানতে পেরেছে, কিংফিশার রেস্টুরেন্ট লিমিটেডের আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধন নেই। প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় মদ ও বিয়ার কেনার পক্ষে অল্প কিছু চালান দেখাতে পারলেও অধিকাংশ পণ্যের বৈধ ক্রয় রসিদ উপস্থাপন করতে পারেনি। একই সঙ্গে বিদেশি মদ ও বিয়ার সংগ্রহের বৈধ নথিপত্রও দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।
কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর আইনের প্রাসঙ্গিক বিধান অনুসরণ করে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এ ঘটনায় রেস্টুরেন্টটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
