বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে যুবক নিহত, উড়ে গেছে কব্জিসহ ঘরের চাল
Advertisement
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বোমা বিস্ফোরণে সোহান বেপারী (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় তার হাতের কব্জিসহ উড়ে গেছে টিনের ঘরের চাল। এ সময় ৪ জন মারাত্মক আহত হয়েছেন। আহতদের গোপনে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে শত শত বোমা তৈরির সরঞ্জাম পড়ে রয়েছে। এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বিলাসপুর মুলাই বেপারীকান্দির সাগর বেপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মাঝে-মধ্যে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
বৃহস্পতিবার ভোরে কুদ্দুস বেপারীর চাচাতো ভাই আবু সিদ্দিক বেপারীর ছেলে সাগর বেপারীর সদ্য তৈরি করা বসতঘরে বোমা তৈরি করার সময় বিস্ফোরণ ঘটলে একই উপজেলার দেলোয়ার হোসেন বেপারীর ছেলে সোহান বেপারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতের হাতের কব্জিসহ ঘরের চাল উড়ে যায়। এ সময় আরও ৪ জন মারাত্মক আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে তার লাশ লুকাতে গিয়ে ঘটনাস্থলের দক্ষিণ দিকে পিয়াজখেতে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। সেখানে তার লাশ রেখে পালিয়ে যায় তারা।
এ ব্যাপারে সাগরের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, আমার স্বামী ভ্যান চালায়। মানুষের থেকে সহযোগিতা নিয়ে ঘরটি তৈরি করেছি। নতুন ঘরে আমরা এখনো থাকি না। ভোরে বোমার শব্দ পেয়ে ঘুম ভাঙে। পরে জানতে পারি আমাদের নতুন ঘরে নাকি বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। কে বা কারা ওই ঘরটিতে রাতে ছিল। ঘরে কোনো মালামাল না থাকায় তালা দেওয়া হতো না।
সাজেদা বেগম নামের স্থানীয় এক নারী বলেন, আগে এলাকায় অনেক মারামারি হতো। দুপক্ষের লোকজন মারামারি করত। এক বছর ধরে অনেকে জেলে থাকায় ভালোই ছিলাম। এখন আবার আগের মতোই মারামারি শুরু হয়েছে। এ এলাকাটি একটি বোমার এলাকা, পুলিশ জানলেও কোনো অভিযান করে না।
প্রতিবেশী সাহানা বেগম বলেন, আমরা চরম আতঙ্কে আছি। কোনোরকম মুখ খুলতে পারব না।
রাবেয়া খাতুন নামের আরেক নারী বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম ট্রান্সমিটার ব্লাস্ট হয়েছে। ঘর খুলে দেখি অনেক ধোঁয়া আর কিছু লোক দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। দেখি একজনের লাশ টানাহেঁচড়া করে পিয়াজখেতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা।
জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মেদ বলেন, বোমা বানাতে গিয়ে ৫ জন মারাত্মক আহত হন। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সাগর বেপারীর বাড়ির ঘরটি উড়ে গেছে। পাশাপাশি শত শত বোমা তৈরির সরঞ্জাম আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তানভীর হাসান বলেন, আজ সকালে বিলাশপুর এলাকায় একটি বাড়িতে বোমা বানাতে গিয়ে একজন মারা গেছে। এ সময় তাদের মধ্যে একজনের হাতের কব্জিসহ ঘরের চাল উড়ে গেছে। আহতদের কোথায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে আমরা তার খোঁজখবর নিচ্ছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
