প্যারোলে মুক্তি মেলেনি ছেলের, বাবার মরদেহ নেওয়া হলো কারাগারে
কিশোরগঞ্জ ব্যুরো
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৮ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাবার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি মেলেনি রাজনৈতিক মামলায় কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে অন্তরীণ মিলন মিয়ার। অবশেষে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিতে বাবার মরদেহ নেওয়া হয় কারাগারে।
বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে মরদেহ নেওয়া হয়। এমন ঘটনা এখন ‘টক অব দ্য কিশোরগঞ্জ।’
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫) একটি রাজনৈতিক মামলায় কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে অন্তরীণ। তার বাবার মৃত্যুর পর জানাজায় অংশ নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করা হয়। পরে প্রশাসনের নির্দেশে বাবার মরদেহ কারাগারে এনে মিলন মিয়াকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
সূত্রমতে, মিলন মিয়ার বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার সন্তান মিলন মিয়াকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহিংসতার একটি বিস্ফোরক মামলায় ২০২৪ সালে আটক করে ভৈরব থানা পুলিশ। পরে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৯ জানুয়ারি মিলনের জামিন মঞ্জুর হলেও কারাগার থেকে মুক্তি না দিয়ে ২৬ জানুয়ারি মিলনকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারেই আটকে রাখা হয়।
মিলন মিয়ার পরিবার ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য কিশোরগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। তবে মরদেহ কারাগারে নিয়ে দেখানোর নির্দেশ মিলে।
মিলনের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
কিন্তু এরশাদুল আহমেদ এ ব্যাপারে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানান।
স্বজনরা জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পৌঁছায়। মিলনের এক চাচাকে কারাগারের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য স্বজনদের সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিন বলেন, মিলন মিয়া কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও নেই। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের গেটেই মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয় মিলন মিয়াকে।
