Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

ঝুঁকিতে প্রাণ-প্রকৃতি: পর্ব-১

তিন উৎসে সুন্দরবনে ঢুকছে প্লাস্টিক বর্জ্য

Advertisement

Icon

আবুল আহসান টিটু, ফকিরহাট (বাগেরহাট)

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

উজানের নদী, বঙ্গোপসাগর ও বনসংলগ্ন বাজার-বন্দর এই তিন পথে প্লাস্টিক বর্জ্য ঢুকছে সুন্দরবনে। বন বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বর্জ্য আসছে উজানের নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে। জোয়ারের পানিতে এসব বর্জ্য পৌঁছাচ্ছে বনের গভীরে। কোথাও ম্যানগ্রোভের শ্বাসমূলের চারপাশে জমছে প্লাস্টিক, কোথাও সৈকত ও চরে তৈরি হয়েছে বর্জ্যরে স্তূপ। এতে বিপন্ন হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র।

সুন্দরবনের কটকা, কচিখালি, জামতলা, ডিমের চর ও আন্ধার মানিকসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সৈকত থেকে বনের অভ্যন্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে প্লাস্টিক বর্জ্য। কসমেটিকসের প্যাকেট, ভিন্ন পুরুত্বের পলিথিন, স্যান্ডেল, বস্তা, জেলেদের ফেলে দেওয়া নাইলন জাল, কীটনাশকের খালি বোতল, জালের ভাসমান ড্রাম, ককশিটসহ নানা সামগ্রী পড়ে আছে। ডিমের চরে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাগর তীরের উঁচু জায়গায় কয়েক টন প্লাস্টিক সামগ্রী দেখা গেছে। কটকা ও কচিখালি থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হলেও সৈকতে বিপুল বর্জ্য রয়েছে।

বাজেট ও জনবল সংকটে বর্জ্য অপসারণে হিমশিম খাচ্ছে বন বিভাগ। পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগ বিভিন্ন সময় প্লাস্টিক সংগ্রহ করে বাগেরহাট ও খুলনায় ডাম্পিং করে। তবে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে জমা বর্জ্যরে তুলনায় এ কার্যক্রম অপ্রতুল।

বন বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার শহরাঞ্চলের বর্জ্য নদীপথে সুন্দরবনে প্রবেশ করে। পশুর, শিবসা, শেলা, বলেশ্বর, কপোতাক্ষ, ভোলা ও খোলপেটুয়াসহ বিভিন্ন নদী-খাল দিয়ে আসা প্লাস্টিক দৈনিক দুবার জোয়ার-ভাটায় বনের গভীরে ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয় উৎস হলো ঢাকা, বরিশালসহ বিভিন্ন শহর এবং পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা নদী দিয়ে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য বঙ্গোপসাগরে পৌঁছায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সমুদ্রগামী জেলে, পর্যটক ও নৌযানের ফেলে দেওয়া নাইলন জাল, ড্রাম, ককশিট, বোতলসহ বিভিন্ন প্লাস্টিকসামগ্রী। সমুদ্রের ফানেল আকৃতির ভৌগোলিক অবস্থান এবং ঢেউ-স্রোতের প্রভাবে এসব বর্জ্য সুন্দরবনের সৈকত ও চরে এসে জমে। তৃতীয় উৎস বনসংলগ্ন বাজার-বন্দর, মৎস্য আড়ত, নৌঘাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বসতবাড়ি। সেখানকার বর্জ্যও স্থানীয় নদী-খাল দিয়ে বনে প্রবেশ করে।

সুন্দরবনে বছরে কত টন প্লাস্টিক জমা হয়, তার সুনির্দিষ্ট সরকারি হিসাব বা গবেষণালব্ধ পরিসংখ্যান নেই। তবে ২০১৭ সালে ‘এনভায়রোনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকা থেকে বছরে প্রায় ৭২ হাজার ৮৪৫ টন মাইক্রোপ্লাস্টিক সুন্দরবনসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে পৌঁছানোর মডেলভিত্তিক তথ্য দেওয়া হয়। ২০২১ সালে ‘ফ্রানটিয়ার্স ইন মেরিন সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত সুন্দরবন বিষয়ক গবেষণাতেও ওই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সুন্দরবনে জমা হওয়া বর্জ্যরে পরিমাণ এবং জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রের অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সুনির্দিষ্ট গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় ২০২০-২০২২ সালে সুন্দরবনের ছয়টি স্থানের নমুনায় প্রতি লিটার পানিতে গড়ে ২ দশমিক ২২টি এবং প্রতি কেজি মাটিতে ৭৩৪টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, উজানের নদী ও সমুদ্র থেকে প্লাস্টিক অপসারণ করা গেলে দূষণ ৭০-৮০ শতাংশ কমানো সম্ভব। প্লাস্টিক গাছের বৃদ্ধি, বীজের অঙ্কুরোদ্গমন এবং জলজ প্রাণীর প্রজননে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মাছসহ জলজ প্রাণীর শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা মানবদেহের জন্যও ক্ষতিকর।

সুন্দরবনে বছরে কত বর্জ্য প্রবেশ করছে এবং কতটুকু অপসারণ হচ্ছে, সেই পরিসংখ্যানও নেই বন বিভাগে। উপকূলীয় শহর-বন্দর ও লোকালয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেই কোনো নজরদারি। বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে জানা গেছে।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বনে প্লাস্টিক নেওয়া বা ফেলা নিষিদ্ধ। বনপ্রহরীরা টহল ও তল্লাশি চালান। তবে নদী ও সমুদ্র থেকে ভেসে আসা বর্জ্য ঠেকানো কঠিন। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ফেব্রুয়ারিতে বন্ধ হচ্ছে সামিটের তিন বিদ্যুৎকেন্দ্র

বন্ধ হচ্ছে সামিটের তিন বিদ্যুৎকেন্দ্র

কলাগাছের সুতায় কলাবতী শাড়ি

কলাগাছের সুতায় কলাবতী শাড়ি

ঝুঁকিতে প্রাণ-প্রকৃতি: পর্ব-১ তিন উৎসে সুন্দরবনে ঢুকছে প্লাস্টিক বর্জ্য

তিন উৎসে সুন্দরবনে ঢুকছে প্লাস্টিক বর্জ্য

লালমোহন ও উজিরপুরে যুবদলের দুই নেতাকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

লালমোহন ও উজিরপুরে যুবদলের দুই নেতাকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম