চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ফেব্রুয়ারিতে
বন্ধ হচ্ছে সামিটের তিন বিদ্যুৎকেন্দ্র
Advertisement
শাহেদ সিদ্দিকী
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সামিট গ্রুপের তিন বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ আর বাড়াবে না সরকার। ২০২৭ সালের ৩ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আশুলিয়া, চান্দিনা এবং মাধবদী-এই তিন কেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সামিট পাওয়ার লিমিটেডকে এর পরই এই তিন বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দিতে হবে। এ তিন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এখন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ৭১ দশমিক ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনছে। তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ পাওয়ায় আরইবি এই তিন কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে বিদ্যুৎ বিভাগকে সুপারিশ করেছিল। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ তা নাকচ করে দেয়। তারা বলেছে, সামিটের বিদ্যুৎ না হলেও চলবে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে সামিটের এই তিন বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানো হয়েছিল। এখন তা বেশ পুরোনো। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে অনেক কম্বাইন্ড বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে আছে। সেখানে অন্যান্য কেন্দ্রের চেয়ে এই তিন কেন্দ্রে বেশি গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। এ অবস্থায় পিডিবি কেন্দ্র তিনটি বন্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছে। এ ব্যাপারে কথা বলতে বারবার চেষ্টা করেও আরইবির চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগ বেসরকারি খাতের (আইপিপি) পুরোনো কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ আর বাড়াবে না। এরই অংশ হিসাবে পেনডেকার এনার্জি কোম্পানির গ্যাসভিত্তিক ৪৫০ মেগাওয়াটের মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রটির চুক্তির মেয়াদও বাড়ানো হয়নি। এটি গত আগস্টে বন্ধ হয়ে গেছে। তিন বছর আগে একই কোম্পানির গ্যাসভিত্তিক ৩৬০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ শেষে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সামিটের আশুলিয়া ৩৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০০৭ সালের ৪ ডিসেম্বর, চান্দিনা ১৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০০৬ সালের ১৫ নভেম্বর এবং মাধবদী ২৪ দশমিক ৩০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি ২০০৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছিল।
সামিট পাওয়ারের এই তিন কেন্দ্র থেকে আরইবি গড়ে ৬ দশমিক ০৭৪ টাকায় কেনে। তবে আরইবি জাতীয় গ্রিড (পিডিবি) থেকে বিদ্যুৎ কেনে প্রতি ইউনিট ৭ দশমিক ৭৮ টাকায়। বিগত বিএনপি সরকার আমলে এই তিন কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে নানা বিতর্ক আছে।
সামিটের তিন বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি আরও পাঁচ বছর বাড়াতে সুপারিশ করেছে আরইবি। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করায় ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই তিন কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
আরইবির সুপারিশে বলা হয়েছিল, তিন কেন্দ্রের কারণে আরইবির সিস্টেম লস কমেছে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে। তাদের এই মতামত যাচাই করতে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী রেজার সভাপতিত্বে গত সেপ্টেম্বরে এক সভা হয়। সেই সবায় বলা হয়, আরইবির এই মতামতের সঙ্গে একমত নয় জ্বালানি বিভাগ। এতে বলা হয়, গ্যাসের অভাবে দেশের ১৫-২০টির বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে থাকে। এর মধ্যে অনেক দক্ষ কেন্দ্রও বসে আছে। তাদের বসিয়ে রেখে সরকারকে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। বন্ধ কেন্দ্রকে এই গ্যাস বরাদ্দ দেওয়া যায়। তাই প্রাকৃতিক গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সামিটের তিন কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো দরকার নেই।
পিডিবি জানিয়েছে, তাদের অনেক কেন্দ্র বন্ধ হয়ে আছে। তাই সামিটের তিন কেন্দ্র বন্ধ হলে তাদের কোনো সমস্যা হবে না। অর্থাৎ ৭১ দশমিক ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অন্য কেন্দ্র থেকে উৎপাদন করতে পারবে পিডিবি।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, সামিট গ্রুপের ১৮টির মতো বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত বছর গ্যাসভিত্তিক রূপপুর ৩৩ মেগাওয়াট, মাওনা ৩৩ মেগাওয়াট এবং উল্লাপাড়া ১১ মেগাওয়াট কেন্দ্র চুক্তি শেষ হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে।
