লালমোহন ও উজিরপুরে যুবদলের দুই নেতাকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুই স্থানে যুবদলের দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ভোলার লালমোহনে বাগ্বিতণ্ডার জেরে মো. ফিরোজ নামের যুবদল নেতাকে এবং বরিশালের উজিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে কাওছার হাওলাদার নামের এক কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ও রাতে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। ব্যুরো ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর-
লালমোহন (ভোলা) : নিহত ফিরোজ উপজেলার কালমা ইউনিয়ন (উত্তর) যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার দোকান এলাকার ডাক্তার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার বিকালে ঢাকায় হাসপাতালে মারা যান তিনি। ফিরোজ ডাক্তার বাড়ির কাশেম আলীর ছেলে। বৃহস্পতিবার ফিরোজ একই বাড়ির কাজলের ঘরের পাশে তার নিজের জমিতে শিমগাছ রোপণ করে সেখানে বাঁশের ঝোপ দেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর কাজলের স্ত্রী জান্নাত ঝোপ কেটে ফেলেন। ফিরোজ তা দেখতে পেয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে জান্নাতের স্বামী কাজল ফিরোজকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। গুরুতর আহত ফিরোজকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তবে শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় স্বজনরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। ঢাকায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। লালমোহন থানার এসআই নূরুল আমিন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্ত কাজলকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বরিশাল : নিহত কাওছার উপজেলার আলমদী গ্রামের মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে। তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। স্থানীয়রা জানান, এলাকায় তিনি যুবদল কর্মী হিসাবে পরিচিত। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় রাশেদ আমিন হাওলাদার নামের একজন আহত হয়েছেন।
আহত রাশেদ জানান, শুক্রবার সকালে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কাওছার ও আশিকুলের সঙ্গে প্রতিপক্ষ ইকবাল হোসেন নান্না মোল্লা, সজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা ও তাদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার হাতাহাতি হয়। এর আগে আলমদী এলাকায় সজলকে মারধর করেন নিহত কাওছারের লোকজন। রাশেদের দাবি, ওই ঘটনার জেরে শুক্রবার রাতে ঢাকা ও বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন সাতলায় আসে। রাতে সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় কাওছার ও রাশেদের ওপর হামলা হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে দুজন পাশের বিলে ঝাঁপ দেয়। পরে সড়কের পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল দরজা ভেঙে কাওছারকে এলোপাতাড়ি কোপায়। আহত রাশেদ দরজার আড়ালে লুকিয়ে বেঁচে যান। স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক কাওছারকে মৃত ঘোষণা করেন। উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বহনকারী মাইক্রোবাস গোয়েন্দা পুলিশ আটক করেছে। গাড়িতে থাকা নয়জনকে উজিরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ওসি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলাউল হাসান জানান, তদন্তের স্বার্থে আটকদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। জড়িত অন্যদের আটকে অভিযান চলছে।
