পটিয়ায় এমপি এনাম ও জেলা বিএনপি আহ্বায়কের ‘বাকযুদ্ধে’ উত্তাপ
Advertisement
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
চট্টগ্রামের পটিয়ায় নবনির্বাচিত এমপি এনামুল হক এনাম ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের পটিয়ায় নবনির্বাচিত এমপি এনামুল হক এনাম ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়ার মধ্যে বাকযুদ্ধে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
নবনির্বাচিত এমপি এনামুল হক এনাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আপনি শুধু পটিয়ায় নয়, চট্টগ্রামে কিভাবে বসবাস করেন আমি দেখব। আর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেছেন, আপনি সংশোধন হোন, নয়ত মানুষ দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত হচ্ছে।
পৃথক দুটি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একে অপরের বিরুদ্ধে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হওয়ায় পটিয়ায় বিএনপির রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। উভয় পক্ষের অনুসারীরা তাদের মত করে একে অন্যকে আক্রমণ করে নানা ধরণের পোস্ট দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এর মাধ্যমে নির্বাচন পরবর্তীতে পটিয়ায় গ্রুপিং-এর রাজনীতি আবারো সক্রিয় হতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত এমপি এনামুল হক এনামের রাজনৈতিক গুরু হলেন তারই বর্তমান প্রতিপক্ষ জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া। তার হাত ধরে ২০০৯ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হন ব্যবসায়ী এনামুল হক এনাম। ইদ্রিস মিয়ার হাত ধরে রাজনীতিতে আসা এনাম ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকার আমলেও পটিয়ায় সক্রিয় ছিলেন এবং নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেন। ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর হরতাল চলাকালে শান্তিরহাটে পুলিশের গুলিতে আহত হন।
এদিকে ২০১৩ সালের পর থেকে গুরু ইদ্রিস মিয়া ও শিষ্য এনামের মধ্যে নানা কারণে দূরত্ব বাড়ে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ১৫ বছরে একাধিক মামলায় কারাবরণ ও সাজাপ্রাপ্ত হন এনামুল হক এনাম। তার নেতৃত্বে অধিকাংশ নেতাকর্মী তার প্রতি অগাধ ভালোবাসায় আসক্ত হয়ে পড়েন। যার প্রমাণ পাওয়া যায় দলীয় মনোনয়ন পাওয়া থেকে শুরু করে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নেতাকর্মীদের ভালোবাসার ফসল হিসেবে তিনি পটিয়ার ১১৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে সবগুলোতে প্রথম হন।
নির্বাচনের আগে বিএনপির দলীয় প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে শিষ্য এনামকে টেনে ধরতে মরিয়া ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামের গুরু ইদ্রিস মিয়া। এনামের মনোনয়ন বাতিলের জন্য করেছিলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে আবেদন। এক সময় তা উভয়ের মধ্যে প্রেষ্টিজ ইস্যুতেও রুপ নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এনামের দলীয় মনোনয়ন বহাল থাকে এবং নির্বাচনে বিজয়ী হন এনাম।
নির্বাচনের পর গত বুধবার (৪ মার্চ) ছনহরায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও এনামের রাজনৈতিক গুরুর বাড়ি সংলগ্ন মাদ্রাসায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক এনাম তার গুরু ইদ্রিস মিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যুবলীগ ও আ.লীগ দোসরদের আপনি পদায়িত করেছেন। আমি বলে যাচ্ছি, আপনি শুধু পটিয়ায় নয়, পুরো চট্টগ্রামে কিভাবে বসবাস করেন আমি দেখব। কুলাঙ্গার নেতাদের উচ্ছেদ করতে হবে। আমি বসে থাকব না। দোসররা বিএনপিতে থাকতে পারে না।
স্থানীয়রা জানান, এনামকে প্রথম ওই মাঠে মাদ্রাসার একই অনুষ্ঠানে প্রথম ইদ্রিস মিয়া জনতার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
ইদ্রিস মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন ওই মাদ্রাসার সভাপতি এখনো ইদ্রিস মিয়া। আর নির্বাচনের পর এনামের প্রথম কোন সভায় তার গুরুর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তাকে সতর্ক করেছেন।
এদিকে শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় পটিয়া উপজেলার ইন্দ্রাপুলস্থ একটি মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, আপনি এখন সবার এমপি। আপনি সংশোধন হয়ে যান। হিংসাত্মক মনোনভাব নিয়ে পটিয়াকে শাসন করতে চাইলে শান্তিকামী মানুষ বসে থাকবে না। দাঁতভাঙা জবাব দিতে মানুষ প্রস্তুত হয়ে আছে।
এই দুই নেতার কথার লড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে নেটিজেনরা নানা মন্তব্য করছেন এবং দলীয় বিভাজন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

-69ae8abe3cae9.jpg)